খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ভেজাল গুড় উৎপাদনের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একটি কারখানায় বড় অভিযান চালিয়েছে। খেজুরের রস ছাড়াই চিটাগুড় ব্যবহার করে গুড় উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় বাজার ও সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চলছিল। এই প্রতারণা উদঘাটনের ফলে ভোক্তারা এখন সতর্ক হয়েছেন এবং প্রশাসনও কঠোর নজরদারিতে সচেষ্ট হয়েছে।
অভিযানটি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোরে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মজমপাড়া এলাকায় পরিচালিত হয়। মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল এর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করা হয় এবং অভিযানের সময় কোকিল উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে গুড় তৈরির কাজে সরাসরি হাত দিতে দেখা যায়।
অভিযানে গুড় তৈরির চুলা, সরঞ্জাম, চিটাগুড় এবং প্রায় ১০ কেজি ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়। স্থানীয়রা জানান, কোকিল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে চিটাগুড় ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছিলেন এবং তা নিয়মিত বাজারে সরবরাহ করতেন। রসের নামে যা বিক্রি হত, বাস্তবে তা ছিল সম্পূর্ণ প্রতারণা, যা সাধারণ ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন,
“ভোক্তাদের প্রতারণা এভাবে চলতে থাকায় আমরা অভিযান চালাই। রস ছাড়াই প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি গুড় তৈরি করা হতো। অভিযানের মাধ্যমে সমস্ত ভেজাল গুড়, চিটাগুড় এবং উৎপাদনের সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। জনস্বার্থে ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, খেজুরের মৌসুমে সাধারণ মানুষ মূলত রসজাত গুড় কিনে থাকেন। এ ধরনের ভেজাল উৎপাদন শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে। প্রশাসন সচেতন হয়ে আরও কঠোরভাবে নজরদারি চালাচ্ছে।
অভিযানের মূল তথ্য সংক্ষেপে নিম্নলিখিত টেবিলে দেখানো হলো:
| বিষয়বস্তু | তথ্য |
|---|---|
| অভিযানকারি সংস্থা | ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয় |
| অভিযানকারীর নেতৃত্ব | অতিরিক্ত সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল |
| অভিযানকাল | ৬ জানুয়ারি, ভোর |
| স্থান | হরিরামপুর, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন, মজমপাড়া এলাকা |
| অভিযুক্ত | কোকিল উদ্দিন ও স্ত্রী |
| ধ্বংসকৃত সামগ্রী | চুলা, গুড় তৈরির সরঞ্জাম, চিটাগুড়, প্রায় ১০ কেজি ভেজাল গুড় |
| দৈনিক উৎপাদন | ১০–১৫ কেজি ভেজাল গুড় |
| অভিযান লক্ষ্য | ভেজাল গুড় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করা, জনস্বার্থ সংরক্ষণ |
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রের মতে, খেজুরের মৌসুমে ভোক্তারা প্রকৃত রসজাত গুড় কিনতে চান। কিন্তু কোকিল উদ্দিনের এই ধরনের প্রতারণা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও বিপজ্জনক। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, অনৈতিক এই কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।