খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে চৈত্র ১৪৩১ | ৮ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাতে চলছে চড়া সুদে ঋণ প্রদানের রমরমা ব্যবসা সততা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি. নামে প্রতিষ্ঠান। তবে ঋণের সুদ আর কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে দিশেহারা অনেকে। সুদ আদায়ে চাপের মুখে ঘটছে আত্মহত্যার মতো ঘটনা।ভেড়ামারাতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত শতাধিক প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই উচ্চ সুদে ঋণ দিচ্ছে। সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ায় মানুষ পা দিচ্ছে এই ফাঁদে। সমবায় অফিস বলছে, অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভেড়ামারা সমবায় অফিসের নিবন্ধন নিয়ে ও নিবন্ধন ছাড়াই সমিতি খুলে শতাধিক প্রতিষ্ঠান চড়া সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবসা করছে। ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকে এই ব্যবসা করছেন। শুধু ব্যাংক চেক রেখে ঋণ দেয় তারা। মাসে হাজারে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিলেও সহজে ঋণ পাওয়ায় তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় মানুষ। তবে সময়মতো টাকা দিতে না পারলেই বাধে বিপত্তি। চড়া সুদের কারণে দেনার পরিমাণ বেড়ে বিশাল অঙ্কে দাঁড়ায়। নির্মমভাবে আদায় করা হয় টাকা।
ব্যবসার জন্য সততা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি. কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ভেড়ামারা রাইটা এলাকার অনেক নিরীহ মানুষ। তবে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় তাদের হেনস্তা করেন ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক। বিশাল অঙ্কের সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলে কিংবা বাড়িঘর ছেড়েও পালিয়েছেন। তবে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সততা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি. এর মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পায় না কেউ।
ভেড়ামারায় সততা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির লি. নিবন্ধন নিয়ে এনজিও দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক কিস্তির নামে ক্রেডিট প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। এনজিও ব্যুরো অথবা মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমতি ছাড়াই সমিতির পরিচালকরা কোটি কোটি টাকার ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তুলছে।
পরিচালক নামধারী মালিক মাসুদ সমিতির সদস্যদের ডিপিএস সঞ্চয়ের টাকা কৌশলে সরিয়ে ব্যক্তিগত নামে কোটি কোটি টাকার জমিজমা ক্রয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ছেন। সমিতির নিবন্ধন নিয়ে বেআইনি ডিপিএস সংগ্রহ করলেও সমবায় দফতরসহ তদারকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমিতিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বরং সমবায় দফতরের কর্মচারীরা তদারকির নামে সমিতিগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এনজিওর ব্যবসা করে সততা ঋণদান ও সমবায় সমিতি লি. পরিচালক মাসুদ কয়েক বছরের মধ্যে কোটি টাকার ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক হয়েছেন। সমিতির সদস্যরা ঋণ নিতে গিয়ে স্বাক্ষর দেয়া ব্যাংক চেক জমা রাখতে বাধ্য হন।
কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে ব্যাংক চেকে বড় অঙ্কের টাকা বসিয়ে এনআই অ্যাক্টের মামলা ঠুকে দিয়ে হয়রানি করে সঞ্চয়ের পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন। এভাবে চড়া সুদে অবৈধভাবে ঋণ দেয়ার ব্যবসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে সততা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি. মালিক মাসুদের সাথে মুঠো ফোনের কথা হলে তিনি বলেন আমাদের সমবায় অফিস থেকে অনুমোদন নিয়ে আছে আমরা ঋণ বিতরণ করা হয় না শুধু আমরা ফার্নিচার ব্যবসা করি এবং ফার্নিচার দিয়ে থাকি।
অভিযোগ পেলে নিয়মের বাইরে গিয়ে ঋণ দেয়া ও সুদ আদায়কারী সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হবে বলে জানালেন ভেড়ামারা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোছা. নাজবিন আক্তার ঋণ নেওয়ার সময় সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
খবরওয়ালা/এমবি