খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে চৈত্র ১৪৩২ | ২০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে সিএনজি ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক সিএনজি চালক নিহত হয়েছেন এবং আরও পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোলা–চরফ্যাশন মহাসড়কের লেবুকাটা এলাকায়। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান, যেখানে চিকিৎসক সিএনজি চালককে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সিএনজি চালক সালাউদ্দিন মিয়া (৪১) ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চার সন্তানের জনক এবং পেশায় সিএনজি চালক ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচ যাত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
| নাম | বয়স | পেশা/পরিচিতি | আহত/মৃত্যু | অবস্থান |
|---|---|---|---|---|
| সালাউদ্দিন মিয়া | ৪১ | সিএনজি চালক | মৃত্যু | ভোলা সদর হাসপাতাল |
| অজানা যাত্রী ১ | – | – | গুরুতর আহত | ভোলা সদর হাসপাতাল |
| অজানা যাত্রী ২ | – | – | গুরুতর আহত | ভোলা সদর হাসপাতাল |
| অজানা যাত্রী ৩ | – | – | গুরুতর আহত | ভোলা সদর হাসপাতাল |
| অজানা যাত্রী ৪ | – | – | গুরুতর আহত | ভোলা সদর হাসপাতাল |
| অজানা যাত্রী ৫ | – | – | গুরুতর আহত | ভোলা সদর হাসপাতাল |
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন থেকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি ভোলার দিকে যাচ্ছিল। লেবুকাটা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের জোরে সিএনজি চালকসহ ছয়জন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাউদ্দিন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর, তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার ফলে নিহত চালকের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলে হারিয়ে তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনরা আহাজারি করছেন, পুরো এলাকা ভারী মনোভাবাপন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলেন, “ঈদের আগমুহূর্তে এমন মর্মান্তিক ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক।”
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে দুর্ঘটনার পর পিকআপ চালক পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, “দূর্ঘটনার কারণ নির্ণয় ও দোষীকে আইনানুগভাবে শাস্তি প্রদানের জন্য তদন্ত চলছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
ঈদ উৎসবের আগে এমন দুর্ঘটনা শুধু পরিবার নয়, পুরো স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য শোকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং ট্রাফিক বিভাগকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।