খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থাপনা শাখা মার্চ মাসের অনলাইনে মূল্য সংযোজন কর বা মূসক রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমা ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। পূর্বে এই রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল প্রতি মাসের ১৫ তারিখ, অর্থাৎ মার্চ মাসের রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল এপ্রিলে মধ্যভাগ পর্যন্ত।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি ছুটি এবং ই-ভ্যাট ব্যবস্থার কারিগরি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত সাময়িক জটিলতার কারণে করদাতাদের সুবিধার্থে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ক্ষমতাবলে এ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী করদাতারা প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের বিক্রয় ও ক্রয় সংক্রান্ত তথ্যসহ অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে বাধ্য থাকেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়।
করদাতাদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানানো হচ্ছিল। বিশেষ করে উৎসবকালীন সময়, সরকারি ছুটি এবং সিস্টেমে ধীরগতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। নতুন এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
| বিষয় | পূর্ববর্তী সময়সীমা | নতুন সময়সীমা | কারণ |
|---|---|---|---|
| মার্চ মাসের মূল্য সংযোজন কর রিটার্ন | প্রতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত | ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত | বাংলা নববর্ষের ছুটি ও ই-ভ্যাট ব্যবস্থার কারিগরি উন্নয়নজনিত সমস্যা |
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন ভিত্তিক কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও সহজ করতে ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। এর ফলে সাময়িকভাবে কিছু প্রযুক্তিগত অসুবিধা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে করদাতারা আরও উন্নত সেবা পাবেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, সময়সীমা বাড়ানোর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা হিসাব সংরক্ষণ ও অনলাইন দাখিল প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ, তারা অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা পাবেন।
সব মিলিয়ে নতুন এই সিদ্ধান্ত কর প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারও রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।