খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে আন্তর্জাতিক বাজারে মহামূল্যবান ধাতু স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও উচ্চ ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সামগ্রিক চাপে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে তেলের বাজার নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,৫১৭.৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। পাশাপাশি আগামী জুন মাসে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও ০.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,৫১৮.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাকে তীব্র করে তুলেছে।
নিচে আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ মূল্যের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| পণ্যের বিবরণ | সর্বশেষ মূল্য ও পরিবর্তনের হার | বাজার পরিস্থিতি ও প্রভাব |
| স্পট গোল্ড (স্বর্ণ) | ৪,৫১৭.৯৪ ডলার (আউন্সপ্রতি ০.৬% হ্রাস) | শক্তিশালী ডলার ও বন্ডের উচ্চ সুদের কারণে নিম্নমুখী। |
| ইউএস গোল্ড ফিউচার (জুন) | ৪,৫১৮.৭০ ডলার (আউন্সপ্রতি ০.৪% হ্রাস) | সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের চাপ। |
| ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল (তেল) | ১০৭ ডলারের ওপরে (ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৩% বৃদ্ধি) | মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ঊর্ধ্বমুখী, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি। |
বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে নতুন করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে। আর এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, যা সরাসরি স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণত স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হলেও, উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কায় এবার স্বর্ণের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
এই অর্থনৈতিক অস্থিরতার নেপথ্যে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিষয়ে একটি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে ‘সঠিক উত্তর’ পাওয়ার জন্য তিনি আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি এটিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ইরানের ওপর আবারও সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও পণ্য বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।