খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীতে চলন্ত গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে ঘটে যাওয়া একটি গুরুতর অভিযোগ। উত্তরা থেকে টঙ্গীগামী ওই বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাসচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় আরেক যাত্রীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে, যার জেরে পশ্চিম টঙ্গী থানায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে বাসের চালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে এবং বাসটি জব্দ করেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পশ্চিম টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান। তিনি জানান, ঘটনার দিনই অভিযুক্ত চালক ও তার সহকারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নাঈম ইসলামের স্ত্রী উত্তরা বিএনএস এলাকা থেকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেটের উদ্দেশ্যে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন। তিনি চালকের পাশের সংরক্ষিত নারী আসনে বসেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর চালক উসকানিমূলক ও অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন।
বাসটি সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পৌঁছালে নাঈম ইসলাম মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় চালক তাকে গাড়ির জানালার সঙ্গে ধাক্কা দেন এবং মোবাইল ফোনটি ফেলে দেন। ভুক্তভোগী নারী বাসটি পুলিশ বক্সের সামনে থামাতে বললেও চালক তা অস্বীকার করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি চিৎকার শুরু করলে চালক বাসের ভেতরেই তাকে ধর্ষণের হুমকি দেন।
বাসে থাকা নূরনবী নামের এক যাত্রী এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে চালক, তার সহকারী ও কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে হোসেন মার্কেট এলাকায় বাসটি থামলে যাত্রীদের সহায়তায় ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়। তবে সবাই নেমে যাওয়ার পর নূরনবীকে একা পেয়ে চালক ও তার সহকারীসহ আরও একজন রড দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি আটক করা হলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যান। পরে আরেক চালককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের হুমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মো. নাঈম ইসলাম পশ্চিম টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাস মালিক সমিতির ১৫–২০ জন থানায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত চালক কয়েক দিন আগেই একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা, চালকদের আচরণ এবং মালিকপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি ও প্রতিবাদকারী যাত্রীকে মারধর |
| স্থান | টঙ্গী, গাজীপুর |
| বাসের নাম | ভিক্টর ক্লাসিক |
| তারিখ | ১ জানুয়ারি |
| আটক | চালক ও সহকারী (২ জন) |
| মামলা | মারধর ও হত্যাচেষ্টা |
| তদন্তকারী থানা | পশ্চিম টঙ্গী থানা |
গণপরিবহনে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি—এই ঘটনাই তার জোরালো স্মারক।