খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিশেষ অফিস আদেশের মাধ্যমে একটি ডেডিকেটেড ‘নি নিয়ন্ত্রণকক্ষ’ (Control Room) স্থাপন করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) থেকে এই নিয়ন্ত্রণকক্ষটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে, যা আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদান করবে।
রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত প্রবাসীকল্যাণ ভবনের সপ্তম তলায় ‘প্রবাসী কল সেন্টার’ সংলগ্ন এলাকায় এই নিয়ন্ত্রণকক্ষটি স্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিন শিফটে বিভক্ত হয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখানে দায়িত্ব পালন করবেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে কোনো বাংলাদেশি কর্মী বা তাদের পরিবার বিপদে পড়লে বা তথ্যের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারবেন।
নিচে নিয়ন্ত্রণকক্ষ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| সেবা প্রদানের সময়কাল | ১০ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত |
| প্রতিদিনের সময়সূচি | সকাল ৮:০০ টা থেকে রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত |
| যোগাযোগের হটলাইন | +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ |
| স্থাপনের স্থান | লিফট-৭, প্রবাসীকল্যাণ ভবন, ইস্কাটন, ঢাকা |
| সার্বিক ব্যবস্থাপনায় | ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া (মহাপরিচালক, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড) |
| প্রধান কেন্দ্র কর্মকর্তা | মো. হেদায়াতুল ইসলাম মণ্ডল (উপসচিব, কর্মসংস্থান-১ শাখা) |
এই নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধকবলিত এলাকায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর ‘শ্রমকল্যাণ উইং’-এর সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করবেন। যদি কোনো এলাকায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী কর্মীরা আটকা পড়েন বা জীবনঝুঁকিতে থাকেন, তবে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া বা প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক সমন্বয় এই কেন্দ্র থেকেই করা হবে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী এবং দেশে থাকা তাদের স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং লেবানন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে থাকা কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রণালয় বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হটলাইনের মাধ্যমে আসা প্রতিটি কল গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সময়সীমা বা সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে। ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দল নিয়মিতভাবে এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়ায় প্রবাসীদের এই সংকটে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অভিবাসী কর্মীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রবাস বন্ধু কল সেন্টারের পাশাপাশি এই বিশেষ হটলাইন নম্বরটি এখন থেকে প্রধান সংযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।