খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে দলটির নেতারা এই দাবি উত্থাপন করেন। বিশেষ করে লটারির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বর্তমান জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
লটারি পদ্ধতি ও জামায়াতের অবস্থান পরিবর্তন
মজার বিষয় হলো, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ১১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নিজেই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সময় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, লটারির মাধ্যমে পদায়ন করলে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতের অভিযোগ থাকবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরবর্তীতে কয়েকটি জেলায় এসপি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলেও ডিসি নিয়োগে তা অনুসরণ করেনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের দাবি, লটারির মাধ্যমে আসা কর্মকর্তারাও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছেন না এবং অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের অনুসারী হিসেবে কাজ করছেন।
নিচে জামায়াতে ইসলামীর উত্থাপিত প্রধান অভিযোগ ও দাবিসমূহ সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | জামায়াতের অভিযোগ ও দাবি |
|---|---|
| মাঠ প্রশাসন | দলীয় ও পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপিদের অবিলম্বে অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ। |
| মনোনয়ন যাচাই-বাছাই | একই অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীর ক্ষেত্রে দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত বা বৈষম্যের প্রতিকার। |
| প্রচারণার সুযোগ | একটি নির্দিষ্ট দলকে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ দেওয়ার অবসান ও সবার জন্য সমান সুযোগ। |
| প্রার্থীদের নিরাপত্তা | কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা না দিয়ে সব নেতার সমান নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। |
| নির্বাচনের মান | কোনো অবস্থাতেই ‘অ্যারেঞ্জড’ বা সাজানো নির্বাচন না করে গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন। |
বৈষম্যের অভিযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। তাঁর মতে, একই ধরনের ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসকরা (রিটার্নিং কর্মকর্তা) প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা প্রশাসনের দলীয়করণের প্রমাণ। তিনি বলেন, “ভোটের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও এখনো নির্বাচনের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়নি।”
প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো কোনো নেতাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, অথচ একই মর্যাদার অন্য নেতারা তা পাচ্ছেন না। বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে তথ্য উপদেষ্টাকে ফোন করে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা ও অস্তিত্বের সংকট
ডা. তাহের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন যদি কোনোভাবে ‘সাজানো’ বা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে দেশ এক গভীর অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে আরও দৃঢ় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান এবং কমিশনকে তাঁদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের দাবি জানান।
সাধারণত সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা রিটার্নিং অফিসার এবং পুলিশ সুপাররা জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এই দুই পদে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়ন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামায়াতের এই দাবি এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।