খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৩ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজায় যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষপর্যন্ত পিছু হটেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
চুক্তি বাস্তবায়ন হলে সংঘাত থামানো যেত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে শান্তিচুক্তিরও সম্ভাবনা তৈরি হতো। তবে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষাই ছিল নেতানিয়াহুর প্রধান বিবেচ্য, এমনটাই উঠে এসেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে নেতানিয়াহু হামাসের সঙ্গে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মধ্যস্থতার জন্য মিসরে দূতও পাঠান তিনি। এর মাধ্যমে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকেই অগ্রসর হচ্ছিল ইসরায়েল, যা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনাও উন্মুক্ত করত। মাসের পর মাস ধরে সৌদি নেতৃত্ব গাজায় যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দিয়ে আসছিল।
কিন্তু সমস্যার জায়গা ছিল নেতানিয়াহুর সরকার কাঠামোয়। উগ্র ডানপন্থি ও কট্টরপন্থি মন্ত্রীদের ওপর নির্ভরশীল নড়বড়ে জোটের নেতা হিসেবে তার অবস্থান দুর্বল। এই মন্ত্রীরা চায় গাজা দখলে রেখে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপন করা হোক এবং কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধ থামানো না হোক।
নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য—অর্থমন্ত্রী বেজালাল স্মোটরিচ ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতমার বেন গাভির—প্রকাশ্যেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তারা চান গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে ইহুদি বসতি গড়ে তোলা হোক। স্মোটরিচ অতীতে একবার সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটকও হয়েছিলেন।
চুক্তিতে গেলে জোট সরকার ভেঙে পড়তে পারে, নতুন নির্বাচন হতে পারে, আর এতে নেতানিয়াহুর পরাজয় নিশ্চিত হতে পারে—এই ভয়েই তিনি পিছিয়ে যান। কারণ, তিনি যদি প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান, তাহলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলোর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের আলোচনাও ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। গাজার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের পর তিনি স্বেচ্ছায় আলোচনা স্থগিত করেন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
এই পুরো প্রেক্ষাপটে গাজায় চলছে মানবিক বিপর্যয়। ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি শিশু (১১ বছরের কম বয়সী)। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসরায়েল যে আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পেয়েছিল, এই যুদ্ধের কারণে তা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।
খবরওয়ালা/আশ