খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
মাদারীপুরে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার সহকারী পুলিশ সুপার, কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে কালকিনি উপজেলা চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মেজর রেজাউল করিম (অব.) দুপুরে শোডাউন করে কালকিনি উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে অন্তত দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপজেলা চত্ত্বরে শহিদ মিনার মঞ্চে দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন সরকারী শহিদ মিনার মঞ্চে বক্তব্য না দেওয়ার জন্য রেজাউল করিমকে অনুরোধ করেন এবং তাকে তার রুমে নিয়ে যান।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী আসিনুর রহমান খোকন তালুকদারের কর্মী ও কালকিনি পৌর ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক এইচএম তুহিনের সঙ্গে রেজাউল করিমের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। কিছু মুহূর্তের মধ্যেই দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার চাতক চাকমা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় চাকত চাকমা, কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার চাতক চাকমা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যে ঘটনাস্থলে আসি। তবে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আমিসহ দুই জন আহত হয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে যে কোনো সময়ে আবারও সংঘর্ষ ঘটতে পারে। পুলিশ প্রস্তুত আছে। তাই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন বলেন, রেজাউল সাহেব বেশ কিছু লোকজন নিয়ে উপজেলা চত্ত্বরে মিছিল করছিলেন। আমি গিয়ে তাকে অনুরোধ করে আমার রুমে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে কিছু লোকজন এসে তাদের ওপর হামলা করে।
তবে সংঘর্ষের বিষয়ে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি।
খবরওয়ালা/শরিফ