খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি একটি আইনি জটিলতায় আটকে আছে। এতে একদিকে যেমন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ থেমে আছে, অন্যদিকে ওই পদে পদোন্নতি না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগও সম্ভব হচ্ছে না।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি পেলে সমসংখ্যক সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হবে, যার মাধ্যমে নতুন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হতো। বর্তমানে সহকারী শিক্ষক শূন্যপদ ৮ হাজার ৪৩টি। প্রধান শিক্ষকের ৩২ হাজার পদে পদোন্নতি দিতে না পারায় সহকারী শিক্ষক পদ শূন্যের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪০ হাজার ছাড়িয়ে।
এ ছাড়া সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের জন্য ৫ হাজার ১৬৬ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াও ঝুলে আছে। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিশুদের মানসিক-শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।
২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষক টাইম স্কেল সংক্রান্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। ২০২০ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় টাইম স্কেল বাতিল করে অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়। বিষয়টি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালত শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে টাইম স্কেল বিতর্কে নতুন পদোন্নতিও আটকে আছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতা ও অনাগ্রহের কারণেই সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির একজন নেতা বলেন, “সরকার চাইলেই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে। কিন্তু ইচ্ছার অভাবে বিষয়টি ঝুলে আছে।”
বর্তমানে বিদ্যমান বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৬০% নারী কোটা, ২০% পোষ্য এবং ২০% পুরুষ কোটা রয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন নিয়োগ নীতিমালায় কোটা বাতিল করে ২০% বিজ্ঞান স্নাতকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে ৯৩% পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে এবং ৭% কোটায়—যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষণ থাকবে।
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন প্রাথমিক শিক্ষা কাঠামোয় শূন্যতা বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ থেমে থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে। শিক্ষক সমাজের দাবি, আদালতের মামলার পাশাপাশি সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ না থাকলে এই সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব নয়।
খবরওয়াল/এমএজেড