খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে মাঘ ১৪৩২ | ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা (Immigrant Visa) কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তে হাজারো পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকা পরিবারের সদস্যদের সাথে মিলিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাদের সেই আশা এখন নিরাশার অন্ধকারে আচ্ছন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনার ফলে সৃষ্ট এই স্থবিরতা প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে নিয়ে আসার জন্য তারা যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ভিসা কার্যক্রম থমকে যাওয়ায় তাদের সকল পরিকল্পনা পণ্ড হয়ে গেছে। বিশেষ করে যারা বৃদ্ধ বাবা-মা বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন, তারা সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপে রয়েছেন। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস বা স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় উৎকণ্ঠা কেবলই বাড়ছে।
অভিবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে বাকের মজুমদারের (নিরাপত্তার স্বার্থে ছদ্মনাম) অভিজ্ঞতায়। তিনি গত তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ১৯৯৩ সালে পেশাগত কারণে দেশটিতে গেলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয় বা ‘পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম’ প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ আইনি পথ পাড়ি দিয়ে ১৯৯৫ সালে তিনি বৈধভাবে থাকার অনুমতি পান।
নিচে বাকের মজুমদারের অভিবাসন প্রক্রিয়ার একটি কালানুক্রমিক চিত্র দেওয়া হলো:
| সময়কাল | অভিবাসন বিষয়ক পর্যায় |
| ১৯৯৩ | প্রথমবার পেশাগত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে আগমন। |
| ১৯৯৪ | রাজনৈতিক আশ্রয় বা ‘পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম’ প্রার্থনা। |
| ১৯৯৫ | যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের প্রাথমিক অনুমতি লাভ। |
| ২০০৮ | পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড বা ‘গ্রিন কার্ড’ প্রাপ্তি। |
| ২০১০ | ১৬ বছর পর প্রথমবার বাংলাদেশে সফর। |
| ২০১২ | চূড়ান্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ। |
অভিবাসন ভিসা স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশিরা প্রধানত যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন:
পারিবারিক বিচ্ছেদ: স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান-সন্ততির দীর্ঘস্থায়ী বিচ্ছেদ পারিবারিক কাঠামোকে দুর্বল করে তুলছে।
আর্থিক ক্ষতি: ভিসার জন্য ইতিমধ্যে ব্যয় করা ফি, মেডিকেল টেস্ট ও আইনজীবীর পেছনে খরচ করা অর্থের উপযোগিতা নষ্ট হচ্ছে।
মানসিক অবসাদ: আবেদনের তারিখ বা ‘প্রায়োরিটি ডেট’ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদী হতাশায় ভুগছেন।
জরুরি পরিস্থিতি: অসুস্থ বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে এই ধরণের পরিবর্তন সাধারণত প্রশাসনিক সংস্কার বা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে করা হয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকায় এটি কেবল বাংলাদেশিদের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই জট নিরসন না হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্ট ও ভোগান্তি আরও বহুগুণ বাড়তে পারে।