খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে পৌষ ১৪৩২ | ৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অভিবাসীদের জীবনমান এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা প্রকাশ করেছেন, যেখানে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সরকারি সহায়তা বা ‘ওয়েলফেয়ার’ গ্রহণের হার তুলে ধরা হয়েছে। ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের এই দীর্ঘ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম, যা নির্দেশ করে যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর এক বিশাল অংশ জীবনধারণের জন্য মার্কিন সরকারের নানাবিধ আর্থিক ও সামাজিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। এই পরিসংখ্যানটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ভুটান ও আফগানিস্তানের মতো দেশের অভিবাসীরা এই তালিকায় বাংলাদেশের উপরে রয়েছে, তবুও আধুনিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশিদের এই উচ্চ নির্ভরশীলতা সমাজবিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে। বিশেষ করে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর নাম এই তালিকায় না থাকাটা প্রমাণ করে যে, তাদের অভিবাসীরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি স্বাবলম্বী।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক ২০২৫ সালের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করতেন, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই উচ্চ হার (৫৬৯ শতাংশ) সত্ত্বেও তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি আশানুরূপ হয়নি। তথ্য বলছে, অন্যান্য এশীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় বাংলাদেশিদের গড় বার্ষিক আয় অনেক কম, যার ফলে দারিদ্র্যের হারও তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি। এই অর্থনৈতিক অসচ্ছলতাই মূলত তাদের সরকারি সহায়তার দিকে ধাবিত করছে।
নিচে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী পরিবারগুলোর সরকারি সহায়তা গ্রহণের হারের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| দেশের নাম | সহায়তা গ্রহণের হার (%) | বৈশ্বিক তালিকায় অবস্থান |
|---|---|---|
| ভুটান | ৮১.৪% | ১ম |
| ইয়েমেন | ৭৫.২% | ২য় |
| সোমালিয়া | ৭১.৯% | ৩য় |
| আফগানিস্তান | ৬৮.১% | ৬ষ্ঠ |
| বাংলাদেশ | ৫৪.৮% | ১৯তম |
| পাকিস্তান | ৪০.২% | ৬০তম |
| নেপাল | ৩৪.৮% | ৯০তম |
| সৌদি আরব | ২৫.৭% | ১১৯তম |
| বারমুডা | ২৫.৫% | ১২০তম |
আর্থিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ এশীয় পরিবারের গড় বার্ষিক আয় যেখানে ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার, সেখানে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর গড় আয় মাত্র ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও এই ব্যবধান স্পষ্ট—বাংলাদেশিদের গড় আয় ৩৫ হাজার ৪০০ ডলার, যা সামগ্রিক এশীয় গড় ৫২ হাজার ৪০০ ডলারের চেয়ে অনেক নিচে। এই আয় বৈষম্য এবং উচ্চ দারিদ্র্য হারের কারণেই বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বড় অংশ খাদ্য সহায়তা (Food Stamps), গৃহায়ন সুবিধা কিংবা স্বাস্থ্য বীমার মতো সরকারি প্রকল্পের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নির্ভরশীলতা কাটাতে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চ আয়ের পেশায় বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।