খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই গ্রেপ্তার অভিযান ঘটে সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার তার বাসা থেকে।
ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন যে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তবে মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানাননি।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক ও সামরিক জীবন দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি পদে কর্মরত ছিলেন। এক-এগারোতে সরকারের পটপরিবর্তনের সময় তিনি জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা গুরুতর অপরাধ দমন ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের দায়িত্বে ছিল। পদোন্নতি পেয়ে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।
২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসরের পর তিনি ঢাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত হন, যার মধ্যে রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।
রাজনীতিতে তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দুই দফা (২০১৮ ও ২০২৪) নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম সংগ্রহ করেছিলেন, পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাপার নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদও অর্জন করেন।
নিচের টেবিলে তার সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বছর | পদ / দায়িত্ব | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২০০৭ | নবম ডিভিশনের জিওসি | এক-এগারোর সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
| ২০০৭ | জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক | গুরুতর অপরাধ দমন ও দুর্নীতি অভিযানের নেতৃত্ব |
| ২০০৮ | হাইকমিশনার, অস্ট্রেলিয়া | তিন দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি |
| ২০১৮ | সংসদ সদস্য, ফেনী-৩ | জাতীয় পার্টি মনোনয়ন, জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য |
| ২০২৪ | সংসদ সদস্য, ফেনী-৩ | পুনরায় জাপার মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত |
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার দেশের সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত।
এই গ্রেপ্তার অভিযান দেশব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ তার অবদান এক-এগারোর সময়ে সরকারের কর্মকাণ্ড ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।