ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, আর এই সত্যটি আবারও প্রমাণ করলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাত্র একদিন আগেই রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বলে ১ রান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় হারের গ্লানি সইতে হয়েছিল রংপুর রাইডার্সকে। সুপার ওভারে গড়ানো সেই ম্যাচে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করায় সমর্থকদের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সমালোচনার জবাব দিতে মাহমুদউল্লাহ সময় নিলেন মাত্র ২৪ ঘণ্টা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে দলকে এনে দিলেন ৬ উইকেটের অবিশ্বাস্য এক জয়।
ম্যাচের শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামা সিলেট টাইটানস রংপুরের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে। দলীয় ৬৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে যখন দলটি বিপর্যয়ে, তখন হাল ধরেন আফিফ হোসেন এবং ইথান ব্রুকস। এই জুটি ৫০ বলে ৬৬ রান যোগ করে দলকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান। আফিফ ৩১ বলে ৪৬ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন এবং ব্রুকস করেন ৩০ বলে ৩২ রান। তবে এই জুটি ভাঙার পর সিলেটের ইনিংস আর বেশিদূর এগোতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে তারা। রংপুরের পক্ষে বাঁহাতি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান দুর্দান্ত বোলিং করে ৩ উইকেট শিকার করেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে মুস্তাফিজ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে ৪০০ উইকেটের রাজকীয় মাইলফলক স্পর্শ করেন।
১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুর রাইডার্স শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করছিল। ওপেনার লিটন দাস ২৫ বলে ৩১ রান করে একটি ভিত্তি গড়ে দিলেও মাঝপথে কাইল মায়ার্স (৩১) আউট হয়ে গেলে রানের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। ১৫ ওভার শেষে যখন জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে ৪৯ রান প্রয়োজন, তখন ক্রিজে আসেন মাহমুদউল্লাহ। সমীকরণটি কঠিন মনে হলেও ১৬তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর চড়াও হন তিনি। সেই ওভারের শেষ চার বলে তিনটি চার এবং একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৯ রান তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেন।
অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ মাত্র ১৬ বলে ৩৪ রানের এক অপরাজিত ক্যামিও ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ১টি নান্দনিক ছক্কা। তার এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর রাইডার্স। গত ম্যাচে হারের ‘খলনায়ক’ থেকে এক নিমিষেই তিনি সমর্থকদের চোখে ‘নায়ক’ হিসেবে আবির্ভূত হলেন।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল ও বিশেষ অর্জনসমূহ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| টস | সিলেট টাইটানস (ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত) |
| সিলেট টাইটানস স্কোর | ১৪৪/৭ (২০ ওভার) |
| সর্বোচ্চ রান (সিলেট) | আফিফ হোসেন (৪৬ রান, ৩১ বল) |
| বোলিং কৃতিত্ব (রংপুর) | মুস্তাফিজুর রহমান (৩/২২, মাইলফলক: ৪০০ উইকেট) |
| রংপুর রাইডার্স স্কোর | ১৪৮/৪ (১৮.৫ ওভার) |
| ম্যাচ জয়ী ইনিংস | মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৩৪* রান, ১৬ বল) |
| ফলাফল | রংপুর রাইডার্স ৬ উইকেটে জয়ী |
মাহমুদউল্লাহর এই দায়িত্বশীল ব্যাটিং কেবল রংপুরকে ২ পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং দলের আত্মবিশ্বাসকেও এক ধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে মুস্তাফিজের ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ম্যাচটির গুরুত্বকে ভিন্ন মাত্রা দান করেছে।



