খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ দলের তরুণ গোলরক্ষক মিতুল মারমার গল্পটি শুধু ফুটবল নয়—মানসিক শক্তি, শোক এবং দায়িত্ববোধের গল্পও বটে। আনিসুর রহমান জিকুর নিষেধাজ্ঞার পর জাতীয় দলের গোলপোস্টের দায়িত্ব পড়ে তাঁর কাঁধে। দায়িত্ব পালনে তিনি সফলও ছিলেন। কিন্তু ভাগ্য নির্মমভাবে আঘাত হানে সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগের দিন—বড় ভাইকে হারান তিনি।
এই ব্যক্তিগত বিপর্যয় সামাল দিয়েই মাঠে নামেন মিতুল। কিন্তু মানসিক ধাক্কা সামাল দিয়ে স্বাভাবিকভাবে খেলা সম্ভব হয়নি। তাঁর ভুলেই বাংলাদেশ হজম করে দুই গোল এবং হারিয়ে ফেলে ম্যাচ। মিতুল পরে ফেসবুকে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছিলেন, “ভাই হারানোর শোক নিয়েও দেশের জন্য সেরাটা দিতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি।”
এরপর হংকংয়ের বিরুদ্ধে এবং নেপালের বিপক্ষেও তাঁকে অনিশ্চিত মনে হয়েছে। নেপাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তাঁর ভুলে সমতা ফেরে, যা দলের জয়ের আশা নষ্ট করেছে। ফলে সমালোচনার ঝড় ওঠে—মিতুলকে কি প্রথম একাদশে রাখা উচিত? শ্রাবণ বা সুজন কি সুযোগ পাওয়া উচিত?
তবুও, কোচ হাভিয়ের কাবরেরা দৃঢ়। তিনি বলছেন, “মিতুল আমাদের পরিকল্পনার অংশ, এবং আমরা তার ওপর বিশ্বাস রাখছি।” বাছাইপর্বের চার ম্যাচে সাত গোল খাওয়া এবং ধারাবাহিক ভুল সত্ত্বেও তাঁর ওপর কোচের আস্থা কমেনি।
২১ বছর বয়সে ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা সহজ নয়। শোক ভুলে আবার দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মিতুল। আজ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই তাঁর জন্য আত্মপ্রমাণের সুযোগ। সমালোচনার জবাব দিতে, নিজের জায়গা পাকা করতে এবং নিজেকে আগের সেই আত্মবিশ্বাসী গোলরক্ষক হিসেবে ফিরিয়ে আনতে।