খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
মুজিবনগর সরকারের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা লে. কর্নেল ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক)। তিনি বলেন, ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাসকে তার নিজস্ব জায়গাতেই রাখতে হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে মুজিবনগর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘মুজিবনগর সরকার কখনোই প্রবাসী বা অস্থায়ী ছিল না। এই সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এটি ছিল একটি সাংবিধানিক সরকার এবং এর শপথগ্রহণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।’
তিনি আরও বলেন ‘আমাদের অনেক গৌরবের বিষয় আছে, যেগুলো আমরা ইচ্ছে করে বিতর্কিত করতে চাই না। ইতিহাস অমোচনীয় থাকা উচিত।’
মুজিবনগর সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সাংবিধানিক সরকার উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন,‘এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করেছে। তখনকার নির্বাচিত যে নেতৃবৃন্দ ছিলেন, তারাই এই সরকার গঠন করেছেন। ১৭ এপ্রিল জাতির জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।’
এ সময় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা আছে, তারা প্রতিনিয়ত বিব্রতবোধ করছে। মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও অনেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। এটি গ্লানিকর।’
এরই মধ্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি নিয়ে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে প্রায় ২,৭০০ মামলা বিচারাধীন থাকায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে। আদালতের রায় পাওয়ার পর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪৩ মিনিটের সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে মুজিবনগর আম্রকাননে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া হয়। মুজিবনগর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন এই কর্মসূচি পালন করে।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা লে. কর্নেল ফারুক-ই-আযম বীর প্রতীক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইসরাত জাহান চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার হুসাইন শওকত, মেহেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম। এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মেহেরপুর পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয় উপদেষ্টাকে। এ ছাড়া ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে গার্ড অফ অনার প্রদানকারীদের মধ্যে বেঁচে থাকা দুজন আনসার সদস্য সিরাজ উদ্দিন ও আজিমউদ্দিনকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স ও আম্রকাননের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা।
খবরওয়ালা/এসআর