খবরওয়ালা বিশেষ প্রতিবেদন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
ইসলামী শরীয়তে সাধারণত ৭৮ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্বের ভ্রমণকে সফর হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পরিমাণ দূরত্ব ভ্রমণ করলে মুসাফিরের জন্য রোজা ভাঙার অনুমতি রয়েছে। তবে রোজা পরে কাজা করে নিতে হবে।
রমজান মাসে সফরের সময় রোজা পালন নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। কেউ যদি রোজা রেখে অন্য দেশে যান, তাহলে তার রোজার বিধান কী হবে? কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক।
ইসলামে সফরের (ভ্রমণ) জন্য বিশেষ ছাড় রয়েছে, যার মধ্যে রোজা ভাঙার অনুমতিও অন্যতম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:‘ আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে, তাহলে সে অন্য দিনে সেই সংখ্যা পূরণ করুক।’(সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৫)
এ থেকে বোঝা যায়, সফর অবস্থায় কেউ চাইলে রোজা রাখতে পারে, আবার চাইলে পরে কাজা করতে পারে।
হাদিসেও সফর অবস্থায় রোজা রাখা বা না রাখার অনুমতি রয়েছে।
সাহল ইবনু সা’দ (রা.) হতে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে আমরা সফরে বের হয়েছিলাম। কেউ রোজা রেখেছিল, কেউ রাখেনি। রোজাদাররা যারা রোজা রাখেনি তাদেরকে দোষারোপ করেনি এবং যারা রোজা রাখেনি তারাও রোজাদারদের দোষ দেয়নি।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১১৮)
যদিও সফরে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে, তবে যদি মুসাফির কষ্ট অনুভব না করেন, তাহলে তিনি রোজা রাখতে পারেন। নবী (সা.) নিজেও কখনো সফরে রোজা রেখেছেন, আবার কখনো রোজা ভেঙেছেন (সহিহ মুসলিম: ১১২১)।
যদি কেউ এমন দেশে যায়, যেখানে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি বা কম, তবে তাকে নতুন জায়গার সময় অনুযায়ী রোজা রাখতে হবে। কুরআনে বলা হয়েছে:“রোজা শুরু করো সুবহে সাদিক থেকে এবং রাত পর্যন্ত পূর্ণ করো।” (সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৭)
এক দেশে চাঁদ দেখে রোজা রাখার পর কেউ যদি অন্য কোনো দেশে চলে যায়, তাহলে সে ওই দেশের সংখ্যা ও নিয়ম মেনে বাকি রোজা পালন করবে এবং ওই দেশের সময় ও জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ পালন করবে।
আর এই স্থান পাল্টানোর কারণে মাঝখান থেকে যে কয়টি রোজা তার কম হবে,সেগুলোকে রমজান মাসের পর কোনো সুবিধাজনক সময়ে কাজা আদায় করে নিতে হবে। (ফাতওয়ায়ে রহমানিয়া ৫/১৮০-৮১)
চান্দ্রমাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়কাল হল যথাক্রমে ২৯ ও ৩০ দিন। একটি হাদিসে রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে এ ঘোষণা দিয়েছেন। এরই আলোকে সমস্যাটির সমাধান হল, যে ব্যক্তি ২৭ বা ২৮ রোজা পূর্ণ করার পরই তার (সফর করে আসা) দেশে ঈদের চাঁদ ওঠে যায় সে ওই দেশবাসীর সঙ্গে ঈদ করবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি বা দুটি রোজা রেখে ৩০টি পূর্ণ করবে।
তবে ওই জায়গায় যদি ২৯ রোজার পরই ঈদের চাঁদ দেখা গিয়ে থাকে তাহলে ২৯টি পুরো করলেই চলবে। আর যে ব্যক্তির রোজা ৩০টি পুরো হয়ে যাওয়ার পরও ওই দেশের মুসলমানদের রমজান মাস পূর্ণ হয় না সে ওই দেশের লোকজনের সঙ্গে রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত রোজা রেখে যাবে। যাতে রমজানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন না হয়। অতঃপর সবার সঙ্গে একত্রে ঈদ করবে।
যদি নতুন দেশে গিয়ে সাহরি বা ইফতারের সময় কমে যায় বা বেড়ে যায়, তবে সেই দেশের সময় মেনে চলতে হবে। যদি দিন খুব লম্বা হয় (২০+ ঘণ্টা), তাহলে নিকটবর্তী দেশের মধ্যম সময় অনুসরণ করা যেতে পারে।
ইসলামী স্কলারদের মতে, সফরকালীন অবস্থায় রোজা না রাখার অনুমতি থাকলেও, যদি কেউ রাখতে চায় তবে তা করতে পারে। তবে যদি ভ্রমণ ক্লান্তিকর হয়, তাহলে পরে কাজা করাই উত্তম।
খবরওয়ালা/ এমবি