খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৮ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের প্রথম মেট্রোরেল লাইনের একই এলাকায় এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজধানীবাসীর মধ্যে মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন উঠেছে। রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলরত প্রথম পর্যায়ের ট্র্যাক ও কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। যদিও মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মেট্রোরেলের উন্নয়ন ব্যয় বাবদ জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে ৪,৮৬৪ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরের পরিচালন খাতের বরাদ্দ hingegen কমানো হয়েছে। প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার এই অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে এক টাকাও বরাদ্দ না রাখাকে অনেক যোগাযোগ ও প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ অদক্ষতা ও অযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএমটিসিএলের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৬,৬০৫ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১,৪৬৯ কোটি টাকা। তবে আগের অর্থবছরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি এবং একই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও তা নেই।
ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকল্পটি এখনও ঠিকাদারের পর্যবেক্ষণে রয়েছে, তাই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে সমস্যা চিহ্নিত হলে তা ঠিক করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড’ শেষ হওয়ার পর বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ডিএমটিসিএলের দায়িত্ব থাকবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএমটিসিএলের প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্ত হয়েছে চলতি অক্টোবরেই, তবে কার্যকর দেখানো হয়েছে জুলাই থেকে। চার মাস পরে বাজেট চূড়ান্ত হওয়ায় খরচ কবে হবে, তা অনিশ্চিত। চলতি অর্থবছরে ডিএমটিসিএলের পরিচালন খাতের প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা, যা কমিয়ে ২১৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই বাজেট পরিবর্তন অনুমোদন দিয়েছে ডিএমটিসিএলের পরিচালনা পরিষদ।
গত রোববার ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেল পথের খুঁটি ও উড়াল পথের সংযোগস্থল থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড পড়লে এক পথচারীর মৃত্যু হয়, আহত হন আরও দুজন। ওজন ৮০ কেজি ছিল। ঘটনার পর ডিএমটিসিএল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার প্রধান সাবেক এমডি ও বর্তমান সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
কমপক্ষে পাঁচ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বিভিন্ন সভায় আলোচনা হলেও কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, “পরিচালনা পরিষদের সর্বশেষ কয়েকটি সভায় রক্ষণাবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোনো সাড়া দেননি।”
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুখ আহমেদ বলেন,“রক্ষণাবেক্ষণে বরাদ্দ কম, তবে একেবারেই নেই, তা বলা ঠিক নয়। বর্তমানে ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড চলছে। তাই এই সময়ে আমাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার প্রয়োজন নেই। পিরিয়ড শেষ হলে বরাদ্দ অন্তত তিনগুণ বাড়ানো হবে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড