খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে পৌষ ১৪৩২ | ৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক ও অপরাধ দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ শীর্ষক একটি বিশেষ ব্লক রেইড বা সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। সোমবার ডিএমপির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ১০ জন সক্রিয় মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানটি মূলত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গত একদিনের অভিযানে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বিভিন্ন অলিগলি এবং সন্দেহভাজন আস্তানায় তল্লাশি চালায়। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৯২টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ২৭ পুরিয়া হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাদক বেচাকেনা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের এই কার্যক্রমে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট স্পটগুলোতে হানা দেওয়া হয়, যার ফলে এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।
নিচে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও অভিযানের সারসংক্ষেপ একটি তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অভিযানের নাম | অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২ |
| মোট গ্রেপ্তার | ১০ জন |
| জব্দকৃত ইয়াবা | ৯২টি |
| জব্দকৃত হেরোইন | ২৭ পুরিয়া |
| মূল অভিযুক্ত | রনি শিকদার ওরফে রাজন ও দেলোয়ার হোসেন দেলু |
| আইনগত পদক্ষেপ | সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা ও আদালতে প্রেরণ |
| অভিযানের সময়কাল | গত ২৪ ঘণ্টা (সোমবার পর্যন্ত) |
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে বয়সের বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। এদের মধ্যে ১৯ বছরের কিশোর থেকে শুরু করে ৪৩ বছরের মধ্যবয়সী ব্যক্তিও রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রনি শিকদার ওরফে রাজন (৩৬), মো. দেলোয়ার হোসেন দেলু (৪৩), মো. খোকন (২১), ফয়সাল (১৯), মো. শুভ মোল্লা (১৯), মিজান (২৯), মো. মিজান (৩১), মো. সোহাগ (২৮), মো. রমজান ওরফে হৃদয় (২৫) ও মো. আলী (৩০)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ তাদের যথাযথ পুলিশি পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।
যাত্রাবাড়ী এলাকাটি ঢাকার অন্যতম ব্যস্ততম টার্মিনাল হওয়ায় এখানে অপরাধীদের আনাগোনা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন কলোনিগুলোতে মাদকের বিস্তার রোধে ডিএমপি তাদের এই বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের মূল উৎস এবং এর পেছনে থাকা ‘গডফাদার’দের শনাক্ত করতে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও পুলিশের সাথে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়মিত এই ধরনের অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।