খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের একটি মাছের আড়ত থেকে মেহেদী হাসান অপু (২৫) নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার মধ্যরাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানাজানি হয়। নিহতের পায়ের রগ কাটা এবং শরীরে জখমের চিহ্ন থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ও নিষ্ঠুরতার সাথে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আজ সোমবার সকালে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু সংবাদমাধ্যমকে জানান, রোববার গভীর রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ কাঁচাবাজারের আড়ত এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় অপুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আততায়ীরা নিহতের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে, যা সাধারণত চিরস্থায়ী পঙ্গুত্ব বা রক্তক্ষরণে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য করা হয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে পুলিশ ধারণা করছে, এলাকায় মাদক কারবার বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রকৃতভাবে কারা জড়িত এবং এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহত মেহেদী হাসান অপু ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার মৃত বাদশা মিয়ার সন্তান। তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে মাছের আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের ভাগিনা রিপন জানান, অপু স্থানীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অপুর কোনো শত্রু ছিল না এবং তিনি একজন পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন শোকসন্তপ্ত স্বজনরা।
নিহত ব্যক্তির তথ্যের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:
| বিষয়ের বিবরণ | তথ্যের সারসংক্ষেপ |
| নিহতের নাম | মেহেদী হাসান অপু |
| বয়স | ২৫ বছর |
| পেশা | মাছের আড়ত শ্রমিক |
| রাজনৈতিক পরিচয় | শ্রমিক দলের কর্মী |
| আঘাতের ধরন | পায়ের রগ কাটা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত |
| গ্রামের বাড়ি | রাজাপুর, ঝালকাঠি |
| উদ্ধারের স্থান | যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার আড়ত এলাকা |
যাত্রাবাড়ী এবং সায়দাবাদ এলাকাটি রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার ও পাইকারি ব্যবসার বড় কেন্দ্র হওয়ায় এখানে মাঝেমধ্যেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। বিশেষ করে রাতের আঁধারে আড়ত এলাকার নির্জন স্থানে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আড়ত এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে অপরাধীদের তৎপরতা দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপুর হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।