খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে মাঘ ১৪৩২ | ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আর মাত্র কয়েক মাস দূরে, কিন্তু মাঠের উত্তেজনার আগে রাজনীতি ইতিমধ্যেই সবার মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক হুমকির কারণে ব্রিটিশ সংসদের একদল সদস্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লাইড কামরুর ২৩ জন সংসদ সদস্য এ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করলে কোনো রাষ্ট্রকে বিশ্বকাপের মতো খেলাধুলার মহাযজ্ঞে রাখা যায় না।
ঘটনার সূত্রপাত এ মাসে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার পর। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের প্রতি হুমকিমূলক মন্তব্য ও সামরিক পরিকল্পনা। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ এমপিরা প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের নীতির প্রভাব কতটা গ্রহণযোগ্য।
| ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|
| ভেনেজুয়েলার মিশন | প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করার অভিযান |
| কিউবা | তেলের চুক্তি ও সামরিক হুমকি |
| কলম্বিয়া | মাদক প্রতিরোধে যথেষ্ট কাজ না করা অভিযোগ |
| মেক্সিকো | মাদকের ঢল ঠেকাতে সামরিক হুমকি |
| গ্রিনল্যান্ড | আর্কটিকের খনিজ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কড়া অবস্থান |
| ফিফা পুরস্কার | ট্রাম্পকে শান্তি প্রচেষ্টার জন্য ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদান |
| আন্তর্জাতিক সমালোচনা | জাতিসংঘ মহাসচিব ও ভেনেজুয়েলা সমালোচনা করেছেন |
ফিফা ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক অবস্থার কারণে অংশগ্রহণ থেকে অবরুদ্ধ করবে না। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ট্রাম্পের পদক্ষেপ যদি কঠোর হয়, তবে ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞ জন জেরাফা বলেছেন, “ফিফা ও আইওসির নীতিতে শান্তি, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বৈষম্যহীনতার কথা বলা আছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কি একই নীতি প্রযোজ্য হবে, তা পরীক্ষা হবে।”
আগামী জুনে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ও ভবিষ্যতের অলিম্পিক—উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন—এর ফলে রাজনৈতিক চাপ খেলাধুলার মহাযজ্ঞকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরান, হাইতি, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকরা ইতিমধ্যেই ভ্রমণে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
অবশেষে, মাঠের ফুটবল রাজনীতির এই জটিলতার মাঝে কতটা সযত্নে উপস্থাপিত হতে পারবে, সেটাই এখন সবার নজর কাড়ছে।