খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫
অনেক দেনদরবারের পর অবশেষে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কিছুটা হ্রাস করলো যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানায়, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পূর্বঘোষিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এই শুল্ক ছাড় নিঃশর্ত নয়, এর বিপরীতে বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে বড় অঙ্গীকার, যার আর্থিক চাপ পড়বে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর ধরে বছরে ৭ লাখ টন করে মোট ৩৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বাড়াতে হবে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানিও।
সবচেয়ে আলোচিত শর্ত হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে হবে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘এটা আর শুল্ক রেয়াত নয়, বরং একতরফা বাজারের বিনিময়ে চাপিয়ে দেওয়া বোঝা।’
শুধু সরকারি পর্যায়ে নয়, বেসরকারি খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানির চাপ স্পষ্ট, তুলা, সয়াবিন বীজ ও ডালসহ নানা পণ্যের আমদানির ঘোষণা এসেছে, যার অধিকাংশই বাংলাদেশের স্থানীয় চাহিদা বা উৎপাদনের বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনা বলে মত অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৬২৬ কোটি ডলার। এই ঘাটতি কমাতে গিয়ে যে বিপুল পরিমাণ আমদানি বাধ্যতামূলকভাবে করতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু দেশ মার্কিন বাজারে শুল্ক সুবিধা ভোগ করলেও, পাল্টা সুবিধা দেয়নি। তাই এই ‘শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাস’, যা ‘ফেয়ার ট্রেড’ প্রতিষ্ঠার অংশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ‘এই ব্যাখ্যার পেছনে লুকিয়ে আছে বিশ্ববাজারে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের কৌশল।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি সামনে বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত রপ্তানিকারকদের নতুন বাজার কৌশল ও বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি, নয়তো এর পরিণতি হবে দীর্ঘমেয়াদী ও সংকটজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্ক নীতিতে শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে গোটা অঞ্চলেই ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ।
খবরওয়ালা/এমএজেড