খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ এসব অস্ত্র শত্রু দেশের হাতে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পারমাণবিক ওয়ারহেড মূলত ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট বা বোমার সামনের অংশে থাকে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক যা পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাত্মক শক্তি উৎপন্ন করে। এমন ওয়ারহেডের একটি বিস্ফোরণ একটি পুরো শহর ধ্বংস করতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় দুর্ঘটনায় হারানো পারমাণবিক অস্ত্রকে “ব্রোকেন অ্যারো” বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে অন্তত ৬টি এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পারমাণবিক ওয়ারহেড হারিয়ে গেছে এবং আজও এর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত মোট ৩২টি ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনার মধ্যে ছয়টি ওয়ারহেড নিখোঁজ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, তারা যদি তাদের হারানো বোমা খুঁজে না পায়, তবে শত্ররাও তা খুঁজে পাবে না।
| বছর | ঘটনা | হারানো বোমার ধরন | স্থান |
|---|---|---|---|
| ১৯৫৮ | বি-৪৭ বিমান দুর্ঘটনা | মার্ক ১৫ হাইড্রোজেন বোমা (৩.৮ মেগাটন) | জর্জিয়ার উপকূল, ওয়াসাউ সাউন্ড |
| ১৯৬৬ | দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ | বি-২৬ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা | ভূমধ্যসাগর |
| ১৯৬৬ | একই সংঘর্ষ | বি-২৮ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা (৪টি মধ্যে ১টি নিখোঁজ) | ভূমধ্যসাগর |
উল্লেখ্য, ১৯৫৮ সালে টাইবি দ্বীপের কাছে একটি বি-৪৭ বোমারু বিমান মার্ক ১৫ হাইড্রোজেন বোমা বহন করছিল। সংঘর্ষের পর পাইলট বোমাটি জরুরি অবস্থায় ওয়াসাউ সাউন্ডে ফেলে দেন। বোমার বিস্ফোরক ক্ষমতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাগাসাকি হামলার ফ্যাট ম্যানের তুলনায় প্রায় ১৯০ গুণ বেশি ছিল। দুই মাস অনুসন্ধান চালানো হলেও বোমার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
১৯৬৬ সালের সংঘর্ষে ভূমধ্যসাগরে দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চারটি বি-২৮ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমার মধ্যে একটি ওয়ারহেড এখনো নিখোঁজ। এই ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে পুনর্বার উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস উল্লেখ করেছেন, “যদি হামলা কোনো শাসনব্যবস্থা অপসারণে সফল না হয়, তবে ইরান কয়েক দশকের মধ্যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিটি পুরোনো হলেও ইরান তা উত্তর কোরিয়ার মতো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।”
এই পরিস্থিতি বিশ্বের জন্য একটি জটিল এবং বিপজ্জনক সংকেত বহন করছে। হারানো পারমাণবিক অস্ত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা মিলিত হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।