খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন। তাদের সফর চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৫ মার্চ, যা তিন দফা তারিখ পরিবর্তনের পর স্থায়ী করা হয়েছে। সফরের অফিসিয়াল প্রোগ্রামের নাম ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’।
সংবাদমাধ্যম কালবেলা এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য সরকারি কর্মকর্তাদের এইচভিএসি সিস্টেম পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা কৌশল শেখানো। সফরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকও অংশগ্রহণ করবেন।
তবে এই সফরের পেছনে থাকা প্রকল্পের ব্যয় এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের খরচ ইতোমধ্যেই দুই দফায় বৃদ্ধি পেয়ে ২,৩৮৮ কোটি টাকা থেকে ৩,৪৪৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি, আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এইচভিএসি সিস্টেমের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
অদ্ভুত বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে যেসব কর্মকর্তা যাচ্ছেন, তাদের কেউ সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ বা নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত নন। এছাড়াও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক এর চাকরির মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হবে।
সফরের খরচ বহন করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডানহাম-বুশ, যা বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন স্থানে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে কয়েকটি বড় শপিংমলও রয়েছে। তবে খরচ বহনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, কারণ সরবরাহকারীর খরচে সফর করলে একটি প্রকার দায়বদ্ধতা তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহকৃত সিস্টেমের মানের উপর প্রশ্ন তুলতে পারে।
নিচের টেবিলে সফরে যাওয়া কর্মকর্তাদের নাম ও পদবী দেখানো হলো:
| ক্রমিক | কর্মকর্তা নাম | পদবী/পদমর্যাদা |
|---|---|---|
| ১ | আশরাফুল হক | অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত অধিদপ্তর |
| ২ | কাজী মো. ফিরোজ হোসেন | অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল), গণপূর্ত অধিদপ্তর |
| ৩ | ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ | প্রকল্প পরিচালক |
| ৪ | ড. মো. আশরাফুল ইসলাম | তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর |
| ৫ | মো. নাজমুল আলম | ডেপুটি সেক্রেটারি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় |
| ৬ | রাজু আহমেদ | নির্বাহী প্রকৌশলী |
| ৭ | সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা | নির্বাহী স্থপতি |
| ৮ | রিসালাত বারি | উপবিভাগীয় প্রকৌশলী |
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের এইচভিএসি প্রশিক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রয়োজন হলেও প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োজনে এবং খরচের অগ্রগতিতে যথেষ্ট সমন্বয় নেই। ফলে এই সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এই সফর কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে কর্মকর্তাদের আধুনিক এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতাল ও বড় প্রকল্পে প্রয়োগযোগ্য হতে পারে।