খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
এক মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এই পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে শুমার বলেন, “এক মাস আগেও দেশের গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ছিল ২.৯৩ ডলার। আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৯৪ ডলারে। এই অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির জন্য একমাত্র দায়ী ব্যক্তি হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।”
শুমারের মতে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ইরানে হামলার সিদ্ধান্তই এই অস্থিরতার মূল কারণ। তিনি বলেন, “যুদ্ধের ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি ডলার অপচয় হচ্ছে, যা সাধারণ নাগরিকের পকেটে প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের অনর্থক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।”
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের এই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবেও প্রতিফলিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সামরিক অভিযানের কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
| সময়কাল | গড় দাম প্রতি গ্যালন (USD) | দাম বৃদ্ধির হার (%) |
|---|---|---|
| মার্চ ২০২৬ | ২.৯৩ | – |
| এপ্রিল ২০২৬ | ৩.৯৪ | ৭৪.৭ |
শুমার আরও বলেন, “এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে শুধু অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবিত করছে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে। প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে যায়।”
ডেমোক্রেটিক দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতা সব সময়ই ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেন। তিনি সর্বদা আহ্বান জানাচ্ছেন শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধানের জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের এই বড় মূল্যবৃদ্ধি কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব নয়, আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতারও ফলাফল। দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে, যা অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।