খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) মিশরের রাজধানী কায়রোতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের একটি প্রতিনিধি দলের। এর আগে বুধবার রাতেই সংক্ষিপ্ত সফরে কায়রোতে পৌঁছায় ইসরাইলের প্রতিনিধি দল। আল-আরাবি আল-জাদিদ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে কায়রোতে পৌঁছে মিশরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রশাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইসরাইলের প্রতিনিধি দলটি। মিশর মঙ্গলবার গাজায় একটি নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার প্রেক্ষিতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আল-আরাবি আল-জাদিদের প্রতিবেদন অনুসারে, মিশরের প্রস্তাবটি দুটি পক্ষের মধ্যে পার্থক্য দূর করার একটি ‘সেতুবন্ধন’ হিসাবে কাজ করছে। তারা হামাসের পূর্ববর্তী চুক্তির সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা করছে। যেখানে আমেরিকান-ইসরাইলি সৈনিক আলেকজান্ডার ইদান এবং পাঁচজন বন্দির মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
অন্যদিকে, উইটকফের প্রস্তাবে জীবিত বন্দিদের অর্ধেক এবং মৃত বন্দিদের অর্ধেক ফেরত দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছিল।
এর প্রেক্ষিতে হামাস সূত্র জানিয়েছে, তারা ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত। তারা ব্যাখ্যা করে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়নি, বরং তারা সেটি গ্রহণ করেছে এই শর্তে যে, এতে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে অবিলম্বে প্রবেশ করতে হবে।
একইসঙ্গে হামাস অভিযোগ করে বলেছে, উইটকফ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একই অবস্থান গ্রহণ করেছেন। যিনি বন্দিদের মুক্তি চাইছেন কিন্তু চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে চাইছেন না।
এদিকে, চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যেই গাজায় ভয়াবহ রকমের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। গত মঙ্গলবার থেকে নতুন করে চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ৭১০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
এমনকি বিমান হামলার পর গাজায় এখন স্থল অভিযানও শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। যাতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
খবরওয়ালা/টিএ