খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া তিস্তার পানি কমলেও নদীপারের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তাপারে সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলো এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে পড়ছে। ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় অনেকে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বেলা ১২টায় তা ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেলা তিনটার পর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। ফলে ভাটি এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।
আগামী দু’দিন ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এতে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নোহালী, কোলকোন্দ, লক্ষ্মিটারী, গজঘণ্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় ঘরবাড়িসহ জিনিসপত্র অন্যত্র সরানো হচ্ছে। মহিপুরে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষায় ৯০০ মিটার বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার ব্লক ধসে ৭০ ফুট গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে রংপুর-লালমনিরহাট সড়ক ও হাজারখানেক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সেতু রক্ষা বাঁধটি গত দুই বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। পানি বেড়ে বাঁধে সরাসরি আঘাত হানা শুরু হলে আরও বৃষ্টি হলে বাঁধ ভেঙে লালমনিরহাট-রংপুর সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লক্ষ্মিটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, এ ইউনিয়নে ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মর্ণেয়া ইউনিয়নের তালপট্রি ও নরশিং এলাকায় নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো নদীভাঙন ও পানিবন্দি হওয়ার কারণে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ১০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘তিস্তার পানি বাড়া ও কমার সঙ্গে সঙ্গে মহিপুরে তিস্তা সেতুর পশ্চিম অংশের বাঁধটিতেও নতুন ভাঙন শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন