খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 29শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আমার এক কথায় ইউএনও বদলি হন বান্দরবান। ডিসি আমার কাছে কিছুই না। আমার সঙ্গে রয়েছে বিচারপতিদের সম্পর্ক। তোকে দেখে নেব। টিসিবি ডিলারের জন্য আবেদনের পর তদন্তে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপর এভাবে ছাড়াও হন নোয়াখালীর হাতিয়ার এক বিএনপি নেতা।
মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের তমরদ্দি বাজারে।
৪২ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, তমরদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল আলী বার বার উত্তেজিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে মারতে যান। এ সময় তাকে উত্তেজিত ভাষায় গালমন্দ করতে শোনা যায়। পাশে থাকা অনেকে তাকে নির্বৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তাকে মাথা নিচু করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, হাতিয়ায় টিসিবি ডিলারের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির পর অনেকে আবেদন করেন। তমরদ্দি ইউনিয়নে আবেদন করেছেন ২০ জন। তমরদ্দি ইউনিয়নের এই ২০ জনের আবেদন যাচাইবাচাই করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী ইমরান হোসেনকে। তদন্ত কর্মকর্তা অন্যান্য আবেদন যাচাই করতে মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে আব্দুল আলীর আবেদন করা ঘর দেখতে চান। কিন্তু তার দেখানো ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঘরটির তালা খুলে দিতে বললে আব্দুল আলী এই কর্মকর্তার ওপর ছড়াও হন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমাকে কল না দিয়ে ওনারা তদন্ত করতে আসেন। আমি অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে এসেছি। ঘর খুলতে দেরি হওয়ায় তিনি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারিনি। তাই দুএকটা কথা রাগের মাথায় বলেছি।’
ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন বাহার বলেন, ‘আব্দুল আলী বিএনপির একজন কর্মী, সে কোনো পদ পদবিতে ছিল না। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন কাজে তাকে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। দলের নাম বিক্রি করে কারো অনৈতিক কাজ করার সুযোগ নেই।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি‘ডিলার নিয়োগের আবেদনকারীদের তথ্য যাচাইবাছাই করার জন্য মাঠ পরিদর্শনে যাই। আব্দুল আলী একজন প্রার্থী। সে তদন্তে সহযোগিতা না করে মিথ্যা তথ্য দেয়। এসব বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আমি স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। ঘটনাটি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আলাউদ্দিন বলেন, ‘সমাজসেবা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ছাড়াও ভিডিওতে আমি তাকে অপমান অপদস্থ করার দৃশ্যটি দেখেছি। এ বিষয়ে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এসআর