খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি, অথচ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস আজও জানেন না তাঁর দল আদৌ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, কিংবা খেলা হলে কোন দেশে কার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি, ২০২৬) বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে সিলেট টাইটানসের কাছে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে লিটন দাস দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে চলা এই চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্যে উঠে এসেছে এক বছরের কঠোর পরিশ্রম আর পরিকল্পনার বিপরীতে বর্তমান পরিস্থিতির এক হতাশাজনক চিত্র।
সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে বিসিবির সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না। উত্তরে লিটন স্পষ্ট ‘না’ বলে দেন। এমনকি বিসিবির পক্ষ থেকে তাঁর সাথে কোনো আলোচনা করা উচিত ছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি কিছুটা উদাসীনভাবে জানান যে এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। অধিনায়কের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে বোর্ড এবং দলের মূল নেতৃত্বের মধ্যে এক ধরনের বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। লিটন উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, “আপনি কি নিশ্চিত আমরা বিশ্বকাপ খেলব?”
বিগত এক বছর ধরে লিটন দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছে। টানা পাঁচটি সিরিজ জয় এবং দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার পেছনে লিটনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল। তাঁর লক্ষ্য ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী দল গঠন করা। কিন্তু এখন যখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে, তখন মাঠের বাইরের রাজনীতির কারণে সবকিছু ওলটপালট হতে বসেছে।
বর্তমান সংকট ও লিটনের অবস্থানের সংক্ষিপ্ত চিত্র:
| বিষয়ের বিবরণ | বর্তমান অবস্থা ও প্রেক্ষাপট |
| বিশ্বকাপ দল | ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে। |
| ভেন্যু অনিশ্চয়তা | ভারত নাকি শ্রীলঙ্কা—এখনো চূড়ান্ত হয়নি। |
| অধিনায়কের অভিজ্ঞতা | লিটনের নেতৃত্বে টানা ৫টি সিরিজ জয়। |
| আইপিএল ও বিসিবি | মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে ফেরানোর পর ভারতে খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত। |
| মানসিক অবস্থা | অধিনায়কসহ পুরো ১৫ জন ক্রিকেটারই চরম অনিশ্চিত। |
| প্রস্তুতি মাধ্যম | চলমান বিপিএল-কে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার। |
লিটন দাসের দল রংপুর রাইডার্স আজ এলিমিনেটর ম্যাচে ২০ ওভারে মাত্র ১১১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই লো-স্কোরিং ম্যাচ এবং মিরপুরের উইকেটের মান নিয়ে লিটন কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টির জন্য এটি কোনো আদর্শ উইকেট নয়। প্লে-অফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমরা আরও ভালো উইকেট আশা করেছিলাম।” বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য বিপিএল-কে ব্যবহার করা হলেও, এমন মন্থর উইকেটে খেলে বিশ্বমঞ্চের জন্য নিজেদের কতটা প্রস্তুত করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ভারত সফরে না যাওয়ার যে কঠোর সিদ্ধান্ত বিসিবি নিয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে দলের ওপর। লিটন জানান, গ্রুপ প্রতিপক্ষ এবং ভেন্যু সম্পর্কে ধারণা না থাকলে কোনো পেশাদার দলের পক্ষে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “১৫ জন ক্রিকেটার চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরও কেউ জানে না আমরা কোথায় যাচ্ছি। এই অনিশ্চয়তা পুরো দেশের ক্রিকেটের জন্যই নেতিবাচক।” পরিস্থিতির আদর্শ কি না—এমন প্রশ্নে তাঁর সোজাসাপ্টা উত্তর, “জীবনের অনেক কিছুই আদর্শ নয়, তবে সময়ের সাথে তা গ্রহণ করে নিতে হয়।”
লিটন দাসের এই বিস্ফোরক সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্দরমহলের অস্থিরতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে বিশ্বমঞ্চে লড়াইয়ের উপযোগী করার চেষ্টা, অন্যদিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপের আগে এই ধোঁয়াশা দ্রুত না কাটলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।