খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ইবাদত এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে রমজান মাসে গ্রাহকগণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন’ থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, পবিত্র রমজান মাসে ব্যাংকের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে গ্রাহকদের জন্য সরাসরি লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। সাধারণ সময়ে ব্যাংকগুলো সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও রমজানে ইফতারের প্রস্তুতির সুবিধার্থে বিকেল ৪টার মধ্যে সকল দাপ্তরিক কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রমজানকালীন ব্যাংকিং সময়সূচির মূল পরিবর্তনসমূহ:
| কার্যক্রমের ধরণ | সাধারণ সময়ের সূচি | রমজানকালীন নতুন সূচি |
| লেনদেনের সময় | সকাল ১০:০০ – বিকাল ৪:০০ | সকাল ৯:৩০ – দুপুর ২:৩০ |
| দাপ্তরিক কার্যকাল | সকাল ১০:০০ – সন্ধ্যা ৬:০০ | সকাল ৯:settings:৩০ – বিকাল ৪:০০ |
| নামাজের বিরতি | নির্দিষ্ট বিরতি নেই | দুপুর ১:১৫ – দুপুর ১:৩০ |
প্রজ্ঞাপনে জোহরের নামাজের জন্য বিশেষ বিরতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১৫ মিনিটের এই বিরতি কার্যকর থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নামাজের এই বিরতির সময় কাউন্টারে সরাসরি লেনদেন বন্ধ থাকলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমসমূহ বিকল্প বা সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সচল রাখতে হবে। অর্থাৎ, গ্রাহকসেবা যাতে দীর্ঘ সময় ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হওয়ার পর ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় আগের স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে যাবে। সাধারণ সময়ে দেশের ব্যাংকগুলোতে লেনদেন চলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং দাপ্তরিক কাজ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। রমজানের এই বিশেষ সূচি কেবল রোজা চলাকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য হবে।
লেনদেনের সময় কমে আসায় রমজান মাসে ব্যাংকগুলোতে ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গ্রাহকদের শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে সকালের দিকে লেনদেন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম (ATM) বুথ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করে অধিকাংশ জরুরি লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব, যা ব্যাংকে সশরীরে যাওয়ার চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতের এই সমন্বিত উদ্যোগ রমজান মাসে গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তা উভয়ের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।