খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে পৌষ ১৪৩২ | ১৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকার রাজধানী সম্প্রতি এক গভীর শোক এবং উত্তেজনার আবহে গ্রাস হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কারওয়ান বাজার, বিজয়নগরসহ অন্যান্য কেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের সদস্যরা মাঠে রয়েছেন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। আন্দোলনকারীদের আমি অনুরোধ করব, এই দুঃখজনক ঘটনায় ধৈর্য ধরে থাকুন। আমরা প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করব।”
শরিফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।
ঢাকা পুলিশের সূত্র বলছে, এই সময় তারা পরিস্থিতি পুরোপুরি নজরদারিতে রেখেছে। পুলিশের প্রধান শাখা থেকে বলা হয়েছে, “আমরা কারও অবাধ হিংসা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি নিয়েছি।”
এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল শোক প্রকাশ করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সংযম ও ধৈর্য বজায় রাখা এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।