খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে ওপিডি ভবনের পাঁচ তলার স্টোররুমে আগুন লেগে তাড়াহুড়ো করে রোগীদের নিচে নামানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আতাহার আলী (৮২)। এ সময় চার থেকে পাঁচ জন আহত হন।
আতাহার আলীর ছেলে আনসার আলী জানিয়েছেন, তার বাবা তিন দিন আগে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলেন। “আগুনের আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে বাবাকে নিচে নামানোর সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন,” বলেন আনসার আলী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের সূত্রপাত ওপিডি ভবনের স্টোররুম থেকে হয়। রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নামানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে এবং প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জর গিফারী জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।”
হাসপাতালের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা স্বপন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত। চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে এবং রোগীদের সেবা অব্যাহত রয়েছে। তবে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য এবং প্রভাবের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হাসপাতাল | শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম), বরিশাল |
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৭ মার্চ, রাত ১১টা |
| ঘটনা স্থল | ওপিডি ভবনের পাঁচ তলার স্টোররুম |
| নিহত ব্যক্তি | আতাহার আলী (৮২) |
| আহত ব্যক্তির সংখ্যা | ৪–৫ জন |
| আগুন নেভানোর সময় | প্রায় ১ ঘণ্টা |
| সম্ভাব্য কারণ | বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট |
| কর্তৃপক্ষের মন্তব্য | পরিস্থিতি শান্ত, চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালের ওপিডি ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী না থাকলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটার ঝুঁকি থাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সরাসরি ফায়ার অ্যালার্ম, জরুরি বহির্গমন পথ ও নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
সার্বিকভাবে, এ ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, রোগী ও জনসাধারণের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে হবে। হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়করা ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতি নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।