খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন তিনশ ফিট সড়কের জলসিঁড়ি এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন রিফাত (২০) ও সাব্বির (২২)। তারা উভয়েই উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শেকেরকান্দী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রিফাত ও সাব্বির দুই বন্ধু মিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে রাজধানী ঢাকার দিকে আসছিলেন। যাত্রাপথে রূপগঞ্জ থানাধীন তিনশ ফিট সড়কের জলসিঁড়ি আবাসন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দুপুর নাগাদ মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তীব্র গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর উপস্থিত পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করেন। আহতদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) তাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। তবে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের প্রাণরক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে প্রথমে রিফাতকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে অন্য শিক্ষার্থী সাব্বিরও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
| তথ্যের বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| নিহতদের নাম | রিফাত (২০) ও সাব্বির (২২) |
| গ্রামের বাড়ি | শেকেরকান্দী, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | উচ্চমাধ্যমিক (HSC) শিক্ষার্থী |
| যানবাহনের ধরন | মোটরসাইকেল |
| দুর্ঘটনার স্থান | জলসিঁড়ি এলাকা, তিনশ ফিট সড়ক, রূপগঞ্জ |
| হাসপাতালে ভর্তি | ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেক), ঢামেক |
| মৃত্যুর সময় (রিফাত) | বিকেল ৫:১০ মিনিট |
| মৃত্যুর সময় (সাব্বির) | সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিট |
রাজধানীর কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত এই ‘তিনশ ফিট’ বা পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েটি চলাচলের জন্য অত্যন্ত আধুনিক হলেও এখানে প্রায়শই উচ্চগতির কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বিশেষ করে ছুটির দিনে বা দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় তরুণ চালকদের অসতর্কতা এবং গতির সীমাবদ্ধতা লঙ্ঘন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সড়ক বিশেষজ্ঞরা নিয়মিতভাবে মহাসড়কে চলাচলের সময় হেলমেট পরিধান এবং নিয়ন্ত্রিত গতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন।
উক্ত ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও দৃশ্যমান হয়েছে।