খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজবাড়ী পৌর শহরের বিনোদপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে জনাকীর্ণ দিনের আলোতে জাহিদ ফকির (২৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকার পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত জাহিদ ফকির বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা মাহাতাব ফকিরের সন্তান। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে জাহিদ নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। দুপুরের দিকে তিনি বাড়ির অদূরে একটি স্কুল মাঠের পাশে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৪-৫ জন অজ্ঞাত যুবক তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাহিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। জাহিদের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূলে ছিল সামান্য কিছু টাকার লেনদেন। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাসেল মোল্লা জানিয়েছেন, স্থানীয় বখাটে ছেলেদের একটি গ্রুপ জাহিদের কাছে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা পেত। পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই কথা কাটাকাটি চলছিল। ঘটনার দিন জাহিদ ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বখাটেদের গ্রুপটি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে জখম করে।
নিচে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রধান তথ্যগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম | জাহিদ ফকির (২৫) |
| পিতার নাম | মাহাতাব ফকির |
| হত্যাকাণ্ডের স্থান | বিনোদপুর এলাকার স্কুল মাঠের পাশ, রাজবাড়ী |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার দুপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| হত্যাকাণ্ডের ধরন | ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত |
| সম্ভাব্য কারণ | ৩,৫০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ |
| বর্তমান অবস্থা | আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত |
নিহতের বড় ভাই মামুন ফকির এই নৃশংস ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, জাহিদ শান্ত স্বভাবের ছিল। সামান্য কিসের জন্য তাঁকে এভাবে জীবন দিতে হলো তা তারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বখাটে যুবকদের গ্রুপটি পলাতক রয়েছে। তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা দায়েরের পর আইনগত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রাজবাড়ী শহরের মতো জনপদে দিনের দুপুরে এমন হত্যাকাণ্ড জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এলাকাবাসীর দাবি, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের দৌরাত্ম্য বন্ধে পুলিশ যেন অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।