খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীর খড়খড়ি এলাকায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে নিজের মা সোহাগী বেগম (৫৫) নিহত হওয়ার নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খড়খড়ির কৃষি ব্যাংক মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত সুমন (৪২)কে আটক করে পুলিশকে হস্তান্তর করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিহত সোহাগী বেগম ওই এলাকার মৃত আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। তার বড় ছেলে সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকাসক্তির জন্য টাকার অভাবে মা–ছেলের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে সুমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের মায়ের পেট ও বুকে কুপিয়ে জখম করেন, যা অবশেষে সোহাগী বেগমের মৃত্যু ঘটায়।
ঘটনার পর সুমন তার মায়ের মরদেহ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে প্রধান সড়কে টেনে নিয়ে যান। সেখানে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রেখে অটোরিকশা খুঁজতে গেলে স্থানীয়রা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে। তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে সুমন দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করেন। পরে খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, “মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত ছেলে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।”
ঘটনা স্থল ও পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে সুমনের মাদকাসক্তি ও মায়ের সঙ্গে অর্থ নিয়ে তর্ক। পুলিশ অব্যাহতভাবে ঘটনা সম্পর্কিত প্রমাণ সংগ্রহ ও ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য নির্ধারণে তদন্ত চালাচ্ছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যসারণী
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃতের নাম | সোহাগী বেগম |
| বয়স | ৫৫ বছর |
| নিহতের সম্পর্ক | ছেলে সুমনের মা |
| অভিযুক্ত | সুমন |
| অভিযুক্তের বয়স | ৪২ বছর |
| ঘটনার সময় | ৩১ জানুয়ারি, রাত ৯:৩০ মিনিট |
| ঘটনা স্থান | খড়খড়ি, কৃষি ব্যাংক মোড়, রাজশাহী |
| ঘটনার কারণ | মাদকাসক্তির জন্য টাকা নিয়ে বিরোধ |
| পুলিশি পদক্ষেপ | অভিযুক্তকে আটক ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রামেক হাসপাতালে পাঠানো |