খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৫, ১১:১৪ এএম
ঘুমাতে যাওয়ার সময় টিভি বন্ধ করা, ঘরের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া এবং জানালায় কালো পর্দা টানা এগুলো শুধু আর ঘুমের সুবিধার জন্য নয়, এখন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও দরকারি হয়ে উঠছে। নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের বেলায় আলোতে থাকা আমাদের হৃদয়ের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের একটি দল ৮৮,৯০৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের উপর পরিচালিত এক বিশ্লেষণে এমনটা জানিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের কব্জিতে বিশেষ সেন্সর বসিয়ে তাদের রাতের আলোতে থাকার মাত্রা মাপা হয় এক সপ্তাহ ধরে। এরপর পরবর্তী ৯.৫ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ফলাফল বলছে রাতের বেলায় সবচেয়ে বেশি আলোতে থাকা ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে রয়েছে: করোনারি ধমনী রোগ, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন, স্ট্রোক
এই সংযোগ কেবল পর্যবেক্ষণমূলক হলেও জৈবিকভাবে অর্থবহ। আমাদের শরীর একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ির মতো কাজ করে যাকে সার্কাডিয়ান ছন্দ বলা হয়। এই ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে ঘুম, রক্তচাপ, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা, এমনকি রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি পর্যন্ত।
রাতের আলো এই স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায়, যা হৃদরোগের অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রাতের শিফটে কাজ করা বা ঘুমের সময় টিভি চালু রাখা এই ছন্দের জন্য ক্ষতিকর।
নারী ও তরুণদের জন্য ঝুঁকি বেশি
নারীদের মধ্যে রাতের আলোতে থাকার সঙ্গে হৃদরোগ এবং করোনারি ধমনী রোগের ঝুঁকি বেশি।
তরুণদের মধ্যে এই আলো অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন এবং অন্যান্য হৃদরোগের সঙ্গে আরও শক্তভাবে সম্পর্কিত।
জীবনযাত্রায় ছোট পরিবর্তনেই বড় ফল
গবেষকরা মনে করছেন, রাতের বেলায় আলোর সংস্পর্শ কমানো একটি সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে হৃদরোগ প্রতিরোধে। যদিও এই গবেষণাটি এখনও পিয়ার-রিভিউড নয় এবং MedRxiv-এ প্রিপ্রিন্ট হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, তথাপি এর ফলাফল যথেষ্ট উদ্বেগজনক ও সতর্কবার্তা স্বরূপ।
এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ টিভি চালু রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। অথচ এই অভ্যাসটাই হতে পারে ভবিষ্যতের বিপদের মূল।
এখনই সময় নিজেকে রক্ষা করার:
✅ ঘুমানোর আগে ঘরের সব আলো নিভিয়ে দিন
✅ কালো পর্দা ব্যবহার করুন
✅ টিভি, ফোন, ল্যাপটপ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে দিন
✅ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান
সূত্র : সায়েন্স এলার্ট
খবরওয়ালা/টিএস
মন্তব্য