খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৪ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সম্প্রতি একটি তীব্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন শিক্ষককে বরখাস্ত এবং পাঁচজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন পর্যায়ের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, ৫৪৪তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অনীক কৃষ্ণ কর্মকারকে তিন বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া তাকে আগামী ১০ বছর পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার এবং ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত কমিটির সুপারিশ কার্যকর হবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজনের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে, একজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং দুজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহা. মাঈন উদ্দীন জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট সভার অনুমোদন অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মে ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হেদায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। তদন্তে চাঁদা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিবকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আতাউল্লাহ এবং সাজ্জাদ হোসেন সজীবকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি সংকেত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।