খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৮ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রী হল সংসদের নির্বাচিতদের নিয়ে করা ওই মন্তব্যকে ‘হিজাব অবমাননা’ হিসেবে দাবি করে শিক্ষার্থীরা সোমবার রাতে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁর শাস্তির দাবি জানান।
প্রতিবাদের মুখে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অধ্যাপক আ-আল মামুন ফেসবুকে নতুন একটি পোস্ট দিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) উপাচার্য ও বিভাগের সভাপতির কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়।
অধ্যাপক আ-আল মামুন তাঁর ব্যক্তিগত টাইমলাইনে ছাত্রী হল সংসদের শপথ অনুষ্ঠানের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘এই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আমি এন্ডোর্স করছি। কাল আমি এরকম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা পরে ও হাতে নিয়ে ক্লাসে যাবো। পরবো টু-কোয়াটার, আর হাতে থাকবে মদের বোতল। মদ তো ড্রাগ না! মদ পান করার লাইসেন্সও আমার আছে! শিবির আইসেন, সাংবাদিকরাও আইসেন!’
পোস্টটি কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মুছে ফেলেন এবং দাবি করেন, কারও পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। কিন্তু ততক্ষণে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে বিক্ষোভে নামেন। পরে তারা ছাত্রীদের আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে রবীন্দ্র ভবনের সামনে সমাবেশ করেন। এ সময় তাঁরা স্লোগান দেন—‘মামুন তুই কুলি কর, মদের গন্ধ দূর কর’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, মামুন ইজ নো মোর’, ‘এই মুহূর্তে মামুনকে বহিষ্কার করতে হবে’।
শিক্ষকের দুঃখপ্রকাশ
মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, ‘আমি ২০১৩ সাল থেকে নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে হতাশা থেকে আমি এমন কিছু লিখেছি, যা লেখা উচিত হয়নি। পোস্টটি সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নিয়েছি। কারও মনে আঘাত লাগলে আমি দুঃখিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘পোশাক নিয়ে আমি কাউকে ছোট করে দেখি না। “হিজাব” নিয়ে আমার সমর্থনমূলক পোস্টও আছে। ভুল ব্যাখ্যা হওয়ায় আমি অনুতপ্ত।’
রাকসুর দাবি
রাকসুর নেতারা উপাচার্যের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলেন, অধ্যাপক আ-আল মামুন রাকসু নির্বাচনে বিজয়ী নারী প্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত পোশাক, ধর্মীয় পরিচয় ও স্বাধীনতা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাকসুর পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. অধ্যাপক আ-আল মামুনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে;
২. ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে;
৩. প্রশাসনকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে;
৪. ভবিষ্যতে শিক্ষক বা কর্মকর্তা যেন শিক্ষার্থীর পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য না করেন—সে বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে;
৫. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিষ্ণুতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করতে হবে।
রাকসুর নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।