খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) জমির হাজারো গাছ প্রকাশ্যে দিবালোকে হরিলুটের খবর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তবে রামেবির কর্মকর্তারা গাছ কাটায় তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে ভরাটে নিয়োজিত ঠিকাদারকে গাছ কাটার দায়ে শোকজন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০৫ বিঘা আয়তনের কৃষি জমি জুড়ে আম ও মেহেগনির বাগান। অন্যত্র কৃষি আবাদ। বিগত সরকারের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত রাজশাহীর মেয়রের পছন্দে সিলিন্দা মৌজার কৃষি জমিতেই রামেবি প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য ব্যক্তি মালিকানার কৃষি জমি ও স্থাপনা সরকার অধিগ্রহণ করে। এই জমির হাজারো তাজাগাছ প্রকাশ্যে দিবালোকে লুণ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনের মাঝের ৮৪ একর জমি নির্বাচিত হয়েছিল। যার ৫৪ একর জমিই ছিল সরকারি খাস। কিন্তু সাজানো অভিযোগে সেই জমি বাদ দিয়ে বর্তমান কৃষি জমি নির্বাচন করা হয়।
রামেবির বর্তমান কর্তৃপক্ষের হিসেবে অধিগ্রহণকৃত জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছ ছিল। ঐসব গাছ দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির জন্য নাম্বারিং করা হয়েছিল। তবে রামেবি প্রশাসন এখনো গাছকাটার দরপত্রই আহ্বান করেনি। অথচ গোটা জমিতে গাছ কাটার চিহ্ন বিদ্যমান।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ মাস ধরে কাটার ফলে গাছে পরিপূর্ণ জমি এখন প্রায় ফাঁকা। ঐ জমিতে জনৈক হাফিজুল ইসলামের গরু ও ভেড়ার খামার ছিল। তার জমিও অধিগ্রহণ হয়েছে। এই হাফিজুল ভাড়াটে লোক রেখে অলিখিতভাবে ক্যাম্পাস দেখাশোনা করছে। এ জন্য তিনি স্থানীয় কিশোর আব্দুল মমিন, তার নানা কাজিম ও নানি বিউটি বেগমকে ভাড়া করেন। অথচ গাছ কাটার বিষয়ে হাফিজুল কিছুই জানে না বলে দাবি করেন।
একাধিক সূত্রের দাবি, হাফিজুল চলতি মৌসুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বাগান থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় সাবেক ছাত্রনেতা নামমাত্র মূল্যে এসব বাগান ইজারা নেন। গাছ কাটা চক্রে হাফিজুল, ঐ সাবেক ছাত্রনেতা, বালু ভরাটের ঠিকাদার এবং রামেবি রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী জড়িত। প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতেন বলেও সূত্রের দাবি।
তবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. হাসিবুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়টি আপনি যেমন জানতে পারেন, আমিও তেমনি জানতে পারি। তার মানে সেটা অফিশিয়াল নয়। আমি প্রকল্প এলাকায় যাই না। আমার নাম কেন আসবে?’ উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসেনও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
রামেবির উপপ্রকল্প পরিচালক ও পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা নয়, গাছ বেআইনিভাবে কেটেছে ঠিকাদার। এজন্য তাকে শোকজ করেছি। জবাব পেলে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি গাছ কাটায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘তাহলে শোকজই করতাম না। চুক্তিতে নেই যে, ঠিকাদার বালু ভরাট করতে এসে গাছ কাটবে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদার আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা গাছ কাটিনি। যেদিকে গাছ কাটা হয়েছে, সেদিকে আমাদের কোনো কাজ নেই। ঐ দিকে এখনো আমরা যাইনি। এভাবে শোকজের জবাব দেব। বনবিভাগের লোকজনকেও একই কথা বলেছি।’
খবরওয়ালা/এমইউ