অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে অন্যান্য পাঠ্যপুস্তকে ভাষণ আগের মতোই থাকবে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশীদ। তিনি বলেন, “অষ্টম শ্রেণির বাংলা বই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বইয়ের সঙ্গে এ ভাষণ যায় না। তবে অন্যান্য শ্রেণির বইয়ের বিভিন্ন অংশে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থাকবে। এটি ইতিহাসের অংশ।”
প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) বৈঠকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক বই অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য-কণিকা’ বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ রাখাকে কেন্দ্র করে বৈঠকে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ছাড়া প্রায় সবাই সাহিত্য বইয়ে ভাষণ রাখার বিরোধিতা করেন।
এক কর্মকর্তা বলেন, “৭ মার্চের ভাষণ নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক, কিন্তু এতে কিছু বিতর্কিত অংশও রয়েছে। ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে এটি উপযুক্তভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে, তবে সাহিত্য বইয়ে রাখার যুক্তি নেই। পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন ছিল। সেটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির একাধিক সূত্র জানায়, বাংলা সাহিত্য বইয়ে ভাষণটি রাখার পক্ষে ও বিপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। সাবেক শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জোবায়ের ভাষণটি রাখার পক্ষে ছিলেন। তবে সময়-স্বল্পতার কারণে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস বইয়ে না রাখার পক্ষেও অবস্থান নেন। যদিও তিনি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে নেই, তবু শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ভাষণ রাখার পক্ষে সক্রিয় ছিলেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সংক্ষেপিত আকারে ভাষণ রাখা নিয়ে একটি প্রভাবশালী অংশ চেষ্টা চালাচ্ছিল, কিন্তু কমিটির কয়েকজন সদস্য এতে মতামত দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তীব্র সমালোচনার মুখে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি সংস্থার মহাপরিচালক জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এবং মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ আছে এবং সেগুলোতে ভাষণ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকায় এটি রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ে ভাষণ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। মাউশির অধীন পরিচালিত পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে এটি সুস্পষ্ট বলা হয়েছিল। সব মতামতের ভিত্তিতে বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।