খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
অবশেষে দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর অধ্যায়ের ইতি টানল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। টানা তেরো আসর ধরে প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে জয় না পাওয়ার যে রেকর্ড দলটির আত্মবিশ্বাসে ছাপ ফেলেছিল, তা এবার ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল তারা। নিজেদের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শক্তিশালী কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ছয় উইকেটে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে দলটি।
এই জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক রোহিত শর্মা। বয়স বাড়লেও তাঁর ব্যাটিংয়ে যে তীক্ষ্ণতা ও আগ্রাসন দেখা যাচ্ছে, তা সমসাময়িক ক্রিকেটে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এতদিন তাঁর অর্ধশতকগুলো তুলনামূলক ধীর গতিতে এলেও, এবার তিনি সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন চোখ ধাঁধানো এক ইনিংসে।
কলকাতার দেওয়া ২২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন রোহিত। মাত্র ৩৮ বল মোকাবিলা করে ৭৮ রান করে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও ছয়টি ছক্কা, যা প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে কার্যত অসহায় করে তোলে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তিনি মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন—যা তাঁর এই প্রতিযোগিতায় দ্রুততম পঞ্চাশ।
এর আগে ২০১৫ সালের ফাইনালে ২৫ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন তিনি। সেই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছান এই ম্যাচে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে এটি তাঁর দ্বিতীয় অর্ধশতক; প্রথমটি এসেছিল কলকাতার বিপক্ষেই, যখন তিনি করেছিলেন ৯৮ রান।
রোহিতের সামগ্রিক সাফল্যের ধারাও ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। এই ইনিংসের মাধ্যমে তাঁর মোট অর্ধশতকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। শুধু সংখ্যাতেই নয়, ব্যাটিংয়ের ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি মৌসুমে তাঁর ব্যাটিং গতির পরিবর্তন তুলে ধরা হলো—
| মৌসুম | স্ট্রাইক রেট | ব্যাটিং ধরণ |
|---|---|---|
| ২০২২ | ১২০.১৭ | সংযত |
| ২০২৩ | ১৩২.৮ | উন্নতির পথে |
| ২০২৪ | প্রায় ১৫০ | আক্রমণাত্মক |
| ২০২৫ | ১৪৯.২৮ | ধারাবাহিক আগ্রাসন |
| ২০২৬ (প্রথম ম্যাচ) | ২০০-এর বেশি | বিস্ফোরক |
এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে নতুনভাবে রূপান্তরিত করছেন। আগামী ৩০ এপ্রিল ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই ব্যাটসম্যান যেন বয়সকে উপেক্ষা করেই নিজের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের জন্য এই জয় শুধু একটি পরিসংখ্যান বদলের ঘটনা নয়, বরং নতুন আত্মবিশ্বাসের সূচনা। আর রোহিত শর্মার এই ব্যতিক্রমী ইনিংস প্রমাণ করে—অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস মিললে বয়স কোনো বাধা নয়; বরং তা হয়ে ওঠে শক্তির উৎস।