খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজ টিকে রাখার লড়াইয়ে নামার আগে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ ছিল একটাই—জিততেই হবে। প্রথম টি–টোয়েন্টিতে হতাশাজনক হারের পর দলীয় সমালোচনা এবং ব্যাটিং অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ঠিক সেই চাপের মধ্যেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর শান্ত, দৃঢ় এবং দায়িত্বশীল ইনিংসই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৪ উইকেটের জয় এনে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে।
ইনিংসের মাঝপথে যখন লিটন হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট তুললেন, তখন সেটি যেন শুধুই ব্যক্তিগত মাইলফলক ছিল না; বরং দলকে জয়ের পথে নিয়ে যাওয়ার স্বস্তির ইঙ্গিত ছিল। বাংলাদেশের ইনিংসটি যখন বারবার বিপদের মুখে পড়ছিল, ঠিক তখনই তিনি পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে খেলেছেন দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত একটি ইনিংস।
এর আগে টসে জয়ে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ড ঝড়ো সূচনা করে প্রথম ২৮ বলেই তোলে ৫৭ রান। পল স্টার্লিং এবং টিম টেক্টরের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ মুহূর্তে চাপে পড়ে। বিশেষ করে টেক্টর ভাইদের জুটিতে রানপ্রবাহ আরও বাড়ছিল। কিন্তু মেহেদী হাসানের শীতল মাথার স্পিনেই ম্যাচের প্রথম মোড় আসে। তিনি শুধু তিন উইকেটই নেননি, মধ্য ওভারের রানরেটও আটকে দেন, যা আয়ারল্যান্ডকে ১৭০–এর বেশি যেতে দেয়নি। টাকার শেষ দিকে ৪১ রানে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি জোগালেও সেটি শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নিয়ন্ত্রিত। পারভেজ হোসেন ঝড় তুললেও তানজিদ দ্রুত ফিরে যাওয়ায় আবার চাপ বাড়ে। কিন্তু পারভেজের ৪৩ রানের ইনিংস পাওয়ারপ্লেতে ম্যাচকে বাংলাদেশের দিকে টেনে আনে। এরপর লিটন–সাইফের তৃতীয় উইকেট জুটি গড়ে ৫২ রান, যা আসলে জয়ের ভিত্তিপ্রস্তর। শেষ দিকে হঠাৎ তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কিছুটা জটিল হলেও মেহেদী হাসানের শান্ত বাউন্ডারি জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ে শুধু সিরিজে সমতা ফিরেনি, বাংলাদেশের ব্যাটিং আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছে। বিশেষত দেড় শতাধিক রান তাড়া করে জয়ের ব্যর্থ ধারাও কিছুটা কাটল। এখন সিরিজের শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠছে ‘ফাইনাল’, যেখানে এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।