মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় চুরির অভিযোগে স্থানীয় লোকজনের হাতে দুই যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার সাতঘরিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন গোয়ালিমান্দ্রা বেদেপল্লি এলাকার মো. সাগর (৩২) ও সানারুল (৩৪)। তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু–ছাগলসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের তার ও অন্যান্য মালামাল চুরি করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে সাগর ও সানারুল সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের বিদ্যুতের তার চুরি করার সময় এক মুরগির খামারি তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন। পরে এলাকার অন্যরা এসে তাদের কাছে থেকে চুরি করা মালামাল উদ্ধার করেন। দীর্ঘদিন ধরে চুরি চলার কারণে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা রাত থেকে সকালের দিকে পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বেঁধে তাদের মারধর চালান।
পুলিশ জানিয়েছে, সকালে সকাল ৯টার দিকে সাগর ও সানারুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই তারা মারা যান। লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা লস্কর জানান, তাদের শরীরে নানা স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
সাতঘরিয়ার এক স্থানীয় বাসিন্দা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেন, “নিহত দুজনের ক্রমাগত চুরির কারণে লৌহজং ও শ্রীনগরের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। রাতে যখন তাদের মারধর করা হচ্ছিল, তখন ৯৯৯–এ পুলিশের খবর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রাতের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে যাননি। সকালে পুলিশ তাদের উদ্ধার করলে তখন অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। ভ্যানে তোলার সঙ্গে সঙ্গে তারা মারা যান।”
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে তারা পেশাদার চোর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক চুরির মামলা নেই। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
নিম্নে ঘটনাস্থল ও সময়সূচি সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| নাম | বয়স | ঘটনা সময় | অবস্থান | পুলিশ উদ্ধার সময় | মৃত্যু সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| মো. সাগর | ৩২ | রাত ২টা | সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকা | সকাল ৯টা | হাসপাতাল পৌঁছানোর আগে |
| সানারুল | ৩৪ | রাত ২টা | সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকা | সকাল ৯টা | হাসপাতাল পৌঁছানোর আগে |
পুলিশ এখন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষালাভ করে ভবিষ্যতে সবার উচিত আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।