খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৪ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকাবহ ও বেদনাময় দিন। এই দিনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসর আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকাররা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের। জাতির ভবিষ্যৎকে মেধাশূন্য ও নেতৃত্বহীন করে দেওয়ার নীলনকশার অংশ হিসেবেই স্বাধীনতার একেবারে প্রাক্কালে এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল।
এই দিনে দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পী ও শিক্ষকসহ অসংখ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিকে গভীর রাতে নিজ নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের নিথর দেহ পাওয়া যায় ঢাকার রায়েরবাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে। এসব স্থান আজও জাতির স্মৃতিতে রক্তাক্ত ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পাকিস্তানি বাহিনী নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে সদ্য জন্ম নিতে যাওয়া বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু করার লক্ষ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। কারণ বুদ্ধিজীবীরাই একটি জাতির বিবেক, চিন্তা ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের হত্যা করে দেশকে দীর্ঘমেয়াদে পিছিয়ে দেওয়াই ছিল হানাদারদের মূল উদ্দেশ্য।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জি সি দেব, অধ্যাপক সনত্শ ভট্টাচার্য, ডা. আলীম চৌধুরী, ডা. ফজলে রাব্বী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, শহীদুল্লা কায়সার, সিরাজুদ্দীন হোসেন, জেসি গুহ ঠাকুরতা, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীসহ আরও অনেক গুণীজন। সাংবাদিকদের মধ্যে শহীদ হন খন্দকার আবু তালেব, নিজামুদ্দিন আহমেদ, এস এ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নজরুল হক ও সেলিনা পারভিন।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এ দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন।
এ ছাড়া মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। জাতীয় দৈনিকগুলোও প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাঁদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার।
উল্লেখযোগ্য শহীদ বুদ্ধিজীবী ও তাঁদের ক্ষেত্র:
| নাম | পেশা/ক্ষেত্র |
|---|---|
| মুনীর চৌধুরী | শিক্ষাবিদ ও নাট্যকার |
| ডা. আলীম চৌধুরী | চিকিৎসক |
| জি সি দেব | দার্শনিক |
| শহীদুল্লা কায়সার | সাংবাদিক ও সাহিত্যিক |
| সিরাজুদ্দীন হোসেন | সাংবাদিক |
| সেলিনা পারভিন | সাংবাদিক |
| ডা. ফজলে রাব্বী | চিকিৎসক |
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নতশিরে শ্রদ্ধা—তাঁদের আদর্শই হোক জাতির অগ্রযাত্রার প্রেরণা।