অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে কার্তিক ১৪৩২ | ২০ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। গত শনিবারের এই অগ্নিকাণ্ডে তৈরি পোশাক, কাপড় ও কাঁচামালসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য পুড়ে গেছে, যা দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো ভিলেজ হাউসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর রবিবার বিকেল ৫টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর সময়ে অন্তত ৩৫ জন আহত হলেও কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর ও ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
চীনের পর তৈরি পোশাক খাতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। এই খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় হয়, যা দেশের মোট দেশজ প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) ১০ শতাংশের বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত লজিস্টিক হাবগুলোর অন্যতম। বিশেষ করে ডিসেম্বরে বড়দিনকে লক্ষ্য করে পশ্চিমের বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনেক। এখানে কাপড়, ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থসহ বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষণ করা হয়।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান বিবিসিকে বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে নতুন ক্রেতাদের জন্য জরুরি স্যাম্পল বা নমুনা ছিল। এর ফলে অনেক রপ্তানিকারক ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক সুযোগ হারাতে পারেন।
এক ইমেইলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। মোট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে বিজিএমইএ ইতোমধ্যেই তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতির তালিকা জমা দিতে বলেছে।
এটি সাত দিনের মধ্যে দেশের অগ্নিকাণ্ডের তৃতীয় বড় ঘটনা। গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে রাসায়নিক গুদাম ও পোশাক কারখানায় আগুন লাগে, যার ফলে ১৬ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। এরপর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ইপিজেডের বহুতল পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তবে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পরপর তিনটি অগ্নিকাণ্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। অনেকে এটিকে ‘পরিকল্পিত’ ঘটনা হিসেবে দেখছেন। অতীতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ওপর দোষারোপ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারও জবাবদিহি ও পূর্ববর্তী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের অভাব এসব জল্পনা বাড়াচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, যদি কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বা নাশকতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলে, তবে কঠোর ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে বড় অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।