খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
কুষ্টিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের কারণে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে নিজেরাই পরীক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরতলীর ১৮নং লাহিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকরা পরীক্ষায় উপস্থিত না হওয়ায় উত্তেজিত হন অভিভাবকরা। তারা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে নিজের উদ্যোগে পরীক্ষা পরিচালনা করেন। খাতা বিতরণ, সংগ্রহ এবং শৃঙ্খলা রক্ষা সবকিছুই তারা সামলান।
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকদের দাবি থাকতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি গ্রহণযোগ্য নয়। সন্তানদের বছরের পরিশ্রমের মূল্যায়ন এই পরীক্ষার মাধ্যমে হয়, তাই তা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের হাতে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কুষ্টিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাসুদুল করিম বলেন, ‘‘অভিভাবকদের চাপে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় অভিভাবকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মফিজুল ইসলাম জানান, ‘‘অভিভাবকদের সাহায্যে প্রধান শিক্ষক আজ লাহিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন। সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকার কারণে অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া পরীক্ষা সম্ভব ছিল না। জেলায় মোট ৮০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, তার মধ্যে ৭৭টি বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন না। এ ধরনের বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।’’
কর্মবিরতিতে থাকা শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কমপ্লিট শাটডাউন ও সর্বাত্মক কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন। সরকারের প্রতি দ্রুত দাবি মানার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
খবরওয়ালা /এসএস