খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। এই কর্মসূচি মূলত নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনের ওপর সোমবার রাতে সংঘটিত পুলিশের হামলার প্রতিবাদে নেয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা থানার সামনে অবস্থান গ্রহণ করে, বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং হামলায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, “রাস্তা-ঘাটে যে কাউকে বিনা কারণে মারার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে? মানুষ কি এখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে পারবে না? রাস্তা কি পুলিশের সম্পত্তি? ডিসি মাসুদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, না হলে আমরা সরব না।”
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
| দাবি | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| আইনি ব্যবস্থা | ডিসি মাসুদ আলমসহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। |
| অযাচিত পুলিশিং বন্ধ | ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের অনিয়মিত পুলিশি কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। |
| নিরাপত্তা ও মানবাধিকার | বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। |
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, পুলিশের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাফেরার অধিকার হরণ করছে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। তারা পুনরায় জোর দিয়েছেন যে, এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতের হামলার সময় নাইমুদ্দীন কোনো অপরাধ করেননি, তবুও পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে অযাচিত সহিংসতা চালায়। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।
এছাড়া, শিক্ষার্থীরা পুলিশের দায়িত্বশীল আচরণ, জনসাধারণের অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিষয়টি বর্তমানে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শাহবাগ থানার ঘেরাও কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ও সংগঠিত প্রতিবাদী মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা প্রশাসনের প্রতি পুনর্বার আহ্বান জানিয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের দায়িত্বশীলতা, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেন অবিলম্বে বাস্তবায়িত হয়, এটাই শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি।