খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিয়ের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মো. আরিফ বিল্লাহ এসব অভিযোগ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী আরিফ বিল্লাহ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মসজিদের ইমাম। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে লখারকান্দি এলাকার লুৎফর রহমান মোল্লার মেয়ে লাবিবা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে তিনটি সন্তান রয়েছে।
আরিফ বিল্লাহ অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে লাবিবা সন্তানদের রেখে বাসা থেকে চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, লাবিবা অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন। এরপর আদালতের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, লাবিবা এর আগেও একাধিক বিয়ে নাটক করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
আরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাবিবা আক্তারের বিয়ে ও প্রতারণার তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| বছর | স্বামী/প্রতিবাদী | ঘটনার বিবরণ | অর্থের পরিমাণ |
|---|---|---|---|
| ২০১২ | মনির হোসেন, নগরকান্দা | বিয়ে, যৌতুক মামলা | ২,৬০,০০০ টাকা আদায় |
| ২০১৫ | মাওলানা তারিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী | বিয়ে, দেনমোহর হাতানো | প্রায় ২,৫০,০০০ টাকা |
| ২০১৯ | মো. আরিফ বিল্লাহ, সদরপুর | বিয়ে, সন্তান তিন | আদালতে দুই মিথ্যা যৌতুক মামলা (খারিজ) |
| ২০২২ | মো. আরিফ বিল্লাহ | বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া | চলমান সিআর মামলা নং-২৩৩ |
আরিফ আরও অভিযোগ করেন, লাবিবা স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ সুদে বিনিয়োগ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, রোকছানা বেগমের কাছে ৯ লাখ টাকা এবং হান্নান মোল্লার কাছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগের তথ্য তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া সম্প্রতি কিছু ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে লাবিবা তার বাড়িতে গিয়ে বড় অংকের টাকা দাবি করেছেন এবং টাকা না দিলে মানহানিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বিল্লাহ বলেন, “এই নারী ও তার পরিবারের ধারাবাহিক প্রতারণায় আমি সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করছি।”
অভিযুক্ত লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানিয়েছেন, “এ পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেননি। অভিযোগ করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”