খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে বৈশাখ ১৪৩২ | ৬ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
মাদারীপুরের সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের আলমমীরের কান্দি এলাকায় ‘শিরক’ আখ্যা দিয়ে শতবর্ষী একটি বটগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৫ মে) সকালে একদল ব্যক্তি গাছটি কাটার কাজ শুরু করলে মঙ্গলবার (৬ মে) প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করা হয়। তবে ততক্ষণে গাছটির বেশির ভাগ অংশ—ডালপালা, কাণ্ড ও কিছু শিকড় কেটে ফেলা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাছটি কুমার নদের পাড়ে অবস্থিত এবং সত্তার হাওলাদারের মালিকানাধীন জমিতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে স্থানীয়দের মধ্যে গাছটি ঘিরে নানা বিশ্বাস ও লোককাহিনি প্রচলিত ছিল। কেউ রোগমুক্তি বা মানতের জন্য মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালাতেন, কেউ পূজা দিতেন বা লাল কাপড় বেঁধে রাখতেন। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই গাছটিকে ঘিরে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সোমবার সকালে কিছু ব্যক্তি একত্রিত হয়ে গাছটি কাটতে শুরু করেন। তাঁদের মতে, গাছটির গোড়ায় পূজা বা শিরনি দেওয়া ‘শিরক’, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই ‘গুনাহর কাজ’ বন্ধ করতে তাঁরা এই পদক্ষেপ নেন।
আলমমীরের কান্দি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল কুদ্দুস জানান, গাছের মালিকের অনুমতি নিয়ে গাছটি কাটা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শিরক বন্ধ করতেই আমরা এটি করেছি। কাঠ বিক্রির দেড় হাজার টাকা স্থানীয় মসজিদে জমা রাখা হয়েছে।’
তবে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এই কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা জানান, গাছটি শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, পরিবেশগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লুৎফর ব্যাপারী নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘একটি বৃক্ষকে এভাবে ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে ধ্বংস করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব জানান, গাছ কাটার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে তা বন্ধ করেন। অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
জেলা বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বটগাছ একটি সংরক্ষিত প্রজাতির বৃক্ষ। একে কাটার কোনো অনুমতি কেউ দিতে পারে না। এই গাছের ফল পাখি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, জেলার শতবর্ষী বৃক্ষ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/আরডি